মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সহিংসতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি জানিয়েছে, সংঘাতের জেরে অঞ্চলজুড়ে এবং এর বাইরেও লাখো মানুষের মধ্যে ভয়, আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে এবং প্রতি ঘণ্টায় সংঘাত আরও বিস্তৃত হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাই কমিশনারের কার্যালয়ের এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন সংস্থাটির মুখপাত্র রাভিনা শামদাসানি।
এদিকে আব্বাস আরাঘচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) একটি ছবি প্রকাশ করেছেন। সেখানে দেখা যায়, খোলা মাঠজুড়ে সারি সারি সদ্য খোঁড়া কবর। সাদা চক দিয়ে চিহ্নিত আয়তাকার কবরগুলো শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে বিস্তৃত। পাশে শোকাহত মানুষের উপস্থিতিও দেখা যায়। ধারণা করা হচ্ছে, দাফনের প্রস্তুতি চলছিল।
ইরানের দাবি, দক্ষিণাঞ্চলীয় মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বোমা হামলায় ১৬৫ জন স্কুলছাত্রী নিহত হয়েছে। নিহতদের দাফনের জন্যই এসব কবর প্রস্তুত করা হয়েছে বলে দাবি তেহরানের।
ছবিটি পোস্ট করে আব্বাস আরাঘচি লেখেন, ‘১৬০-এর বেশি নিরীহ কিশোরীকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হত্যা করেছে। বিদ্যালয়ে বোমা নিক্ষেপ করে তাদের দেহ ছিন্নভিন্ন করে দেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘গাজা থেকে মিনাব- নিরীহ মানুষকে ঠান্ডা মাথায় হত্যা করা হচ্ছে।’
ভারতে অবস্থিত ইরানের দূতাবাসও পৃথক পোস্টে একই বক্তব্য তুলে ধরে। সেখানে কবরস্থানটির ছবি শেয়ার করে বলা হয়, ‘ছোট ছোট ফেরেশতাদের জন্য ছোট ছোট কবর। মিনাবের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা এখন পাশাপাশি স্বর্গে।’
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ’র বরাতে স্থানীয় এক প্রসিকিউটর জানান, হামলায় আরও ৯৬ জন আহত হয়েছেন। তবে হতাহতের সংখ্যা এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের ধ্বংসস্তূপের মধ্যে উদ্ধারকর্মীরা ভাঙা কংক্রিট সরিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে স্কুলব্যাগসহ বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধার করতে দেখা যায়। ভবনটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্রও স্পষ্ট।
ইরান বিষয়টি জাতিসংঘে উত্থাপন করে দাবি করেছে, এটি বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর ইচ্ছাকৃত হামলা। তাদের ভাষায়, এটি একটি ‘যুদ্ধাপরাধ’ এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ।
অন্যদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানি কর্মকর্তারা যে এলাকায় হামলার কথা বলছেন, সেখানে কোনো হামলার তথ্য তাদের কাছে নেই। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীও বলেছে, বেসামরিক হতাহতের অভিযোগ তারা পর্যালোচনা করছে।
উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এ ঘটনা নতুন করে কূটনৈতিক টানাপোড়েন সৃষ্টি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিরাজমান উত্তেজনার মধ্যেই বেসামরিক স্থাপনায় হামলার অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। তবে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ ও হতাহতের সঠিক সংখ্যা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।