রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ০৩:৪৭ পূর্বাহ্ন

হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ায় কতটা চাপে বিশ্ব

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না বলে খবর এসেছে। ফলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা আরও ঘনীভূত হয়েছে।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে ইরানের আধা সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানায়, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।

বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহের পথ হিসেবে পরিচিত এই প্রণালি বন্ধ হলে বৈশ্বিক তেলের দামে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে আগেই সতর্ক করেছিলেন বিশ্লেষকেরা।

তাসনিমের খবরে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট এলাকায় থাকা জাহাজগুলো বারবার ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ডস কোর আইআরজিসি এর কাছ থেকে বার্তা পাচ্ছে। ভিএইচএফ বেতারতরঙ্গের মাধ্যমে পাঠানো সেই বার্তায় জানানো হচ্ছে, কৌশলগত এই প্রণালি দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারবে না।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এর নৌ মিশনের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে রয়টার্সকে একই তথ্য জানিয়েছেন। তবে তিনি বলেন, ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কোনো নির্দেশ নিশ্চিত করেনি।

ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো হামলার প্রতিশোধ হিসেবে তেহরান বহু বছর ধরেই এই সরু জলপথ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছিল। শনিবার সকালে ইরানজুড়ে তীব্র হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন।

এরপর তেহরান পাল্টা জবাব দিতে শুরু করে। ইরানি সশস্ত্র বাহিনী যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা অব্যাহত রেখেছে। এমন প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

হরমুজ প্রণালি কোথায়

আল জাজিরার এক্সপ্লেইনার অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি পারস্য উপসাগরে যাওয়ার একমাত্র সামুদ্রিক প্রবেশপথ। এক পাশে ইরান, অন্য পাশে ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত। এই প্রণালি পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর, আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। সেই পথ ধরেই জাহাজগুলো ভারত মহাসাগরে প্রবেশ করে।

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের হিসাবে, বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। অর্থাৎ প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল এই প্রণালি অতিক্রম করে। পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসও এই পথেই পরিবহন হয়। সংস্থাটি একে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

তেলের দামের ওপর প্রভাব

কয়েক দিন ধরেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ছে। রবিবার (১ মার্চ) সকালে ব্রেন্ট ক্রুডের দর বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান স্যাকস সতর্ক করে বলেছিল, ইরান হরমুজ প্রণালি অবরোধে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়াতে পারে। ভারতের ইকুইরাস সিকিউরিটিজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সরবরাহ পথ বন্ধে অপরিশোধিত তেলের দাম ৯৫ থেকে ১১০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102