ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে প্রশাসন। নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে এক ব্রিফিং সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) শৈলকুপা সরকারি ডিগ্রি কলেজ মাঠে আয়োজিত এ ব্রিফিং সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মো. মাহফুজ আফজাল।
সভায় পুলিশ সুপার মো. মাহফুজ আফজাল নির্বাচনি দায়িত্ব পালনকালে করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়গুলো বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ রাখতে সবাইকে পেশাদারিত্ব, সতর্কতা ও আইনানুগভাবে দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট থাকতে হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলা সহ্য করা হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, শৈলকুপা উপজেলায় ১৪টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার অন্তর্গত ৩০৪টি গ্রামে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ২৫ হাজার ২৭৮ জন। এ উপজেলায় মোট ১১৭টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৫৬টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ঝিনাইদহ জেলায় মোট ৫৮৮টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৩৭টি কেন্দ্র, অর্থাৎ প্রায় ৪০ শতাংশ কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে প্রশাসন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান জানান, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং অধিকাংশ কেন্দ্রকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। নির্বাচনের দিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
এদিকে ঝিনাইদহ জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ জানান, জেলার ভোটগ্রহণ নিরাপদ ও সুষ্ঠু করতে প্রায় ১১ হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। এর মধ্যে রয়েছেন ৭ হাজার ৬৪৪ জন আনসার সদস্য, ১ হাজার ৬৪৪ জন পুলিশ সদস্য, ১ হাজার ২৯ জন সেনাবাহিনীর সদস্য, র্যাবের ৪৮ জন সদস্য এবং বিজিবির ২২২ জন সদস্য।
এ ছাড়া ১২ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, ১৬ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং একাধিক ভ্রাম্যমাণ স্ট্রাইকিং ফোর্স দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানান তিনি।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়েছে, সবার সহযোগিতায় শৈলকুপায় একটি শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।