সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভে জড়িত থাকার অভিযোগে অন্তত ১৩৯ বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে ইরান সরকার। তবে তারা কোন দেশের নাগরিক, সেই বিষয়ে এখনও কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
ইয়াজদ শহরের পুলিশ প্রধান আহমাদ নেগাহবান বলেছেন, ‘গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দাঙ্গামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তারা বিশৃঙ্খলাকারীদের সংগঠিত করা, উসকানি দেওয়া ও দিকনির্দেশনায় জড়িত ছিলেন। কিছু ক্ষেত্রে তারা দেশের বাইরে থাকা নেটওয়ার্কের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছেন।’
আহমাদ নেগাহবান আরও বলেন, ‘সাম্প্রতিক দাঙ্গাকারীদের সঙ্গে সম্পর্কিত মামলাগুলো পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এসব অস্থিরতায় গ্রেপ্তার হওয়া ১৩৯ জনই বিদেশি নাগরিক।’
ইরানে অর্থনৈতিক দুরবস্থার প্রেক্ষাপটে গত ২৮ ডিসেম্বর বিক্ষোভ শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে তা দেশজুড়ে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়।
তেহরান স্বীকার করেছে, এ অস্থিরতায় তিন হাজারের বেশি মানুষের মারা গেছে। তবে তাদের দাবি, নিহতদের বেশির ভাগই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও সাধারণ পথচারী। সরকার এই সহিংসতাকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ বা ‘দাঙ্গা’ বলে বর্ণনা করেছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্ট নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, তারা ৬ হাজার ৮৫৪ জনের মৃত্যুর খবর পেয়েছে। অন্য মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা এর চেয়েও বেশি হতে পারে।
মঙ্গলবার ইরানের বিচার বিভাগের মুখপাত্র আসগর জাহাঙ্গির বলেন, মার্কিন উসকানিতে যারা ভূমিকা রেখেছে এবং এটিকে সমর্থন করেছে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
ইরানি গণমাধ্যম বলেছে, গত মাসের বিক্ষোভ-সহিংসতার ঘটনায় তেহরানে চারজন বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সূত্র: ডেইলি সাবাহ