বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫৯ অপরাহ্ন

৫ বছরে বন্ধ আঠারো জোড়া ট্রেন : চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

কুমিল্লা ও লাকসাম অঞ্চলের স্বল্পআয়ের মানুষের কাছে একসময় অন্যতম জনপ্রিয় ও সাশ্রয়ী মাধ্যম ছিল ট্রেন। তবে যথাযথ তদারকি ও তাত্ত্বিক সক্ষমতার অভাবে গত ৫ বছরে এই অঞ্চলে আঠারো জোড়া ট্রেন বন্ধ হয়ে গেছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রী সাধারণ।

চীন থেকে আমদানি করা ২০টি ডেমু ট্রেনের মধ্যে কুমিল্লা অঞ্চলে ৪ সেট চালু ছিল। বর্তমানে সবই অচল হয়ে খোলা আকাশের নিচে পড়ে থেকে মরিচা ধরছে এবং যন্ত্রাংশ খসে পড়ছে।

২০১২ সালে সাড়ে ৬শ’ কোটি টাকা খরচে ৩০ বছর মেয়াদের এই ট্রেনগুলো আনা হয়। কিন্তু যথাযথ কারিগরি দক্ষতা ও তদারকির অভাবে ২০২০ সালে মাত্র ৮ বছরের মাথায় ট্রেনগুলো পুরোপুরি বিকল হয়ে পড়ে।

লাকসামের লোকোশেডে পড়ে থাকা প্রায় ৩০ কোটি টাকা মূল্যের একটি ডেমু ট্রেন বর্তমানে প্রায় কঙ্কালে পরিণত হয়েছে।

কুমিল্লা-নোয়াখালী, কুমিল্লা-চাঁদপুর, কুমিল্লা-ঢাকা এবং কুমিল্লা-চট্টগ্রাম রুটে একসময় মোট ৫৪ জোড়া লোকাল ও আন্তঃনগর ট্রেন চলত। ৫ বছরে ১৮ জোড়া ট্রেন বন্ধ হওয়ায় বর্তমানে চলছে মাত্র ৩৬ জোড়া।

লোকাল ও ডেমু ট্রেন বন্ধ থাকায় আসনভিত্তিক টিকিটের চাহিদা তিনগুণ বেড়েছে। বাধ্য হয়ে সাধারণ যাত্রীরা বেশি ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করছেন।

চাঁদপুর ও নোয়াখালী রুটে ডেমু বন্ধ হওয়ার পর স্বল্পদূরত্বের যাত্রী চলাচলে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছে। বর্তমান ৩৬ জোড়া ট্রেন দিয়ে মোট চাহিদার মাত্র এক-তৃতীয়াংশ মেটানো সম্ভব হচ্ছে।

পূর্বাঞ্চলের এই ৪টি রুটে গত অর্থবছরে বিক্রি হয়েছে ২০ কোটি টাকার টিকিট। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসেই টিকিট বিক্রি হয়েছে প্রায় সাড়ে ১৮ কোটি টাকার, যা প্রমাণ করে এই রুটে ট্রেনের চাহিদা ও আয় যথেষ্ট ভালো।

কুমিল্লা স্টেশন মাস্টার আনোয়ার হোসেন দৈনিক রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, স্বল্প খরচে যাতায়াত করা যাত্রীরা লোকাল ও ডেমু বন্ধ হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিটের চাহিদা এখন তিনগুণ।

লাকসাম জংশন স্টেশন মাস্টার ওমর ফারুক ভূঁইয়া বলেন, ডেমুগুলো থেকে আগে ভালো আয় হতো। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যদি পুনরায় ট্রেনের ব্যবস্থা করে, তবে যাত্রীদের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব।

প্রকৌশল ও লোকশেড শাখা সাইফুর রহমান ও আনিছুর রহমান দৈনিক রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ডেমুগুলো পুনরায় মেরামতের উদ্যোগ নিলে অথবা নতুন ট্রেন বরাদ্দ দিলে এই অঞ্চলের যাত্রী সংকট দূর হবে এবং মানুষ আবার স্বল্প ব্যয়ে যাতায়াতের সুযোগ পাবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102