রাজশাহীর তানোরে ফিজিক্স প্রাইভেট সেন্টারের পরিচালক শিক্ষক খাইরুল ইসলাম ছাত্রীদের নিজ হাতে সিগারেট খাওয়াচ্ছেন এমন একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। শিক্ষক খাইরুল নামের ফিজিক্স প্রাইভেট সেন্টারটি উপজেলার মুন্ডুমালা পৌর বাজারের উত্তরে অবস্থিত।
ফিজিক্স প্রাইভেট সেন্টারের ছাত্রীর এমন ভিডিও ও শিক্ষক খাইরুলের এমন কর্মকাণ্ডে এলাকাজুড়ে শুরু হয়েছে তোলপাড়। সেই সাথে শিক্ষক নামের কলঙ খাইরুলের শাস্তির দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন অভিভাবক মহল থেকে শুরু করে স্থানীয়রা। শিক্ষক খাইরুলের শাস্তির জোর দাবি উঠেছে শিক্ষক সমাজ থেকে শুরু করে সর্ব মহল থেকে। সেই সাথে প্রাইভেট সেন্টারে পড়াশোনা হয় নাকি শিক্ষক ধুমপান সহ নানা অপকর্মে লিপ্ত এমন প্রশ্ন জনমনে।
শিক্ষক খাইরুলের বাড়ি তানোর পৌর সদর এলাকার আমশো গ্রামে। তার শ্বশুর বাড়ি মুন্ডুমালা উত্তরে পাড়া গ্রামে। সেই সুবাদে খাইরুল মুন্ডুমালা উত্তরপাড়া মসজিদ সংলগ্ন তিনতলা বাড়ির নিচ তলায় প্রাইভেট সেন্টার গড়ে তুলেছে। বিগত প্রায় তিন বছর ধরে খাইরুল ফিজিক্স প্রাইভেট সেন্টার পরিচালনা করে আসছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, ফিজিক্স প্রাইভেট সেন্টারের রুম রয়েছে। রুমে বিছানায় বসে আছেন শিক্ষক খাইরুল ও তার ডান পাশে বসে আছে এক ছাত্রী। শিক্ষক সাদা রংয়ের সিগারেট জালিয়ে ওই ছাত্রীর হাতে দেয়। হাতে পেয়ে ওই ছাত্রী সিগারেট টানা শুরু করে। তাদের সামনে আরো কয়েকজন কে কথা বলতে শোনা যায়। ওই ছাত্রী বলে ভিডিও করলে সিগারেট খাব না। তাদের সামনে আরো কয়েকজন কে দেখা যায়। তারাও সিগারেট সেবন করছে।
অভিভাবক মহলের দাবি, মুন্ডুমালা বাজারে প্রায় ২০ বছর ধরে কোচিং সেন্টার পরিচালিত হয়ে আসছে। স্থানীয় কিছু শিক্ষক ও যুবকর পরিচালনা করে থাকে। সুনামের সহিত কোচিং সেন্টার আলছে। কিন্তু কোন অপকর্ম ঘটেনি। অথচ খাইরুল মাত্র কয়েক বছরে নানা ধরনের অপকর্মে লিপ্ত। আমরা ছেলে মেয়েদের ফলাফল ভালো করার জন্য প্রাইভেটে দিয়ে থাকি। আর সেই সুযোগে শিক্ষার্থীদের সরলতার সুযোগ নিয়ে ধুমপানের মত অপরাধ করছে। শিক্ষকরা মানুষ গড়ার কারিগর। তারা যদি অমানুষের মত রুপ নেয় তাহলে কি বলার আছে। খাইরুলের মত শিক্ষক কে আইনের আওতায় এনে চরম সাজা দেয়া দরকার।
তাহলে অন্যরা শিক্ষা নিতে পারবে। আর প্রাইভেট সেন্টারে কেন বিছানা থাকবে। সেখানে তো আরাম করা যায়না। পড়তে যায়। অবশ্যই নানা অপকর্মের কারনেই রুপ বিছানা করে রাখা হয়েছে। খাইরুল যে এর চেয়ে ভয়াবহ অপরাধ করেনি এটার তো কোন গ্যারান্টি নেই। সে বিভিন্ন ভাবে ছাত্রীদের ব্যাক্লমেইল করেছে। তানাহলে বেড বিছানা থাকার কথা না। আবার সিগারেট খাওয়ার ভিডিও আরেকজনকে দিয়ে করানো হচ্ছে। কারন ওই ছাত্রীকে যাতে ব্যাল্কমেইল করে নানা অপকর্ম করা যায়।
স্থানীয়রা জানান, মুন্ডুমালায় বহিরাগতরা এসে আনাচে কানাচে প্রাইভেট সেন্টার খুলে নানা ধরনের অপকর্ম করছে। এধরনের শিক্ষকরা যেন কোনদিন প্রাইভেট বা কোচিং সেন্টার খুলতে না পারে সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে জোরালো ভুমিকা রাখতে হবে। সেই সাথে যত্রতত্র ভাবে যেন কোচিং ও প্রাইভেট সেন্টার গড়ে না উঠে সে দিকেও নজরদারি করতে হবে। যেই ছাত্রীকে সিগারেট খাওয়ানো হল আজ তার ও পরিবারের সম্মান কোথাই গেল। তার ভবিষ্যত জীবনে একটা কলঙ্কের দাগ লেগে গেল। তার পরিবার যাবে কোথায়। এদায় নিবে কে। ওই ছাত্রী যদি কোন অঘটন ঘটায় তাহলে দায় নিবে কে। এজন্য শিক্ষক নামধারী খাইরুল দ্রুত বিচারের আওতায় আনা হোক।
প্রাইভেট শিক্ষক খাইরুলের মোবাইল নম্বরে ফোন দেয়া হলে বন্ধ পাওয়া যায়।
অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসার এসএম মাহমুদ হাসানের সাথে এবিষয়ে কথা বলা হলে তিনি জানান, দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রাইভেট সেন্টারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাঈমা খান জানান, শিক্ষক শিক্ষার্থী ধূমপান অত্যান্ত দু:খজনক ঘটনা। দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।