১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে এ যাবৎকালের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহিদ ও আহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো সবার নৈতিক দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
তিনি বলেন, শহিদদের মহান আত্মত্যাগ ও মূল্যবোধ ধারণ করে একটি সমৃদ্ধ দেশ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
রোববার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের শহিদ ফারহান ফাইয়াজ খেলার মাঠে শহিদ ফারহান ফাইয়াজের ১৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত দোয়া ও প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, গত ১৫ বছর ধরে জনগণের নিরন্তর ও আপসহীন সংগ্রামের মধ্য দিয়েই আমরা আজকের বাংলাদেশ পেয়েছি। এর সুবাদে আজ আমরা মুক্ত ও গণতান্ত্রিক পরিবেশে কথা বলতে পারছি।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ করে যাচ্ছে। এমন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে মানুষের মর্যাদা, ন্যায়বিচার ও সুশাসন নিশ্চিত হবে।
অনুষ্ঠানে শহিদ ফারহান ফাইয়াজের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তার বাবা আলহাজ্ব শহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া ও মা ফারহানা দিবা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। সন্তানের ফেলে যাওয়া স্মৃতি মনে করে তাদের কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে এলে অনুষ্ঠানস্থলে নেমে আসে হৃদয়স্পর্শী নীরবতা।
পরে শহিদ ফারহান ফাইয়াজের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত ও শান্তি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। তার জন্মদিন উপলক্ষ্যে কেক কেটে এতিম শিশুদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।
শহিদ ফারহান ফাইয়াজ, মোহাম্মদ ফারহানুল ইসলাম ভূঁইয়া নামে পরিচিত, তিনি ছিলেন ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। ২০০৭ সালের ১২ সেপ্টেম্বর জন্ম নেওয়া এই তরুণ গবেষণামূলক কাজের প্রতি আগ্রহী ছিলেন এবং উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখতেন।
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ন্যায্য দাবিতে উদ্বুদ্ধ হয়ে সহপাঠীদের সঙ্গে ১৮ জুলাই ধানমন্ডি এলাকায় রাজপথে নামেন ফারহান ফাইয়াজ। সেখানে শিক্ষার্থীদের ওপর সংঘটিত হামলায় তিনি সরাসরি বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। সহপাঠীরা দ্রুত তাকে ধানমন্ডির সিটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ন্যায়ের পক্ষে তার আত্মত্যাগের কারণে শহিদ ফারহান ফাইয়াজ নতুন প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে আছেন।
এদিকে জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ‘লাল’ ও ‘সবুজ’ দলের মধ্যে একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। খেলা শেষে বিজয়ী ‘লাল’ দলের খেলোয়াড়দের হাতে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি তুলে দেন মন্ত্রী এবং শহিদ ফারহান ফাইয়াজের বাবা-মা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. তরিকুল আলম। এ সময় শহিদ ফারহান ফাইয়াজের পরিবারের সদস্যরা, ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।