বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা সাদেক বাচ্চু। তিনি পর্দায় এমনভাবে খল চরিত্রে অভিনয় করতেন যে, একসময় দর্শক বাস্তবের মানুষ আর অভিনীত চরিত্রের মধ্যে পার্থক্য করতে পারতেন না। সেই অসাধারণ অভিনয়ের কারণেই একবার রেলস্টেশনে তাকে বাদামের খোসা ও পাথর ছুড়ে মেরেছিলেন ক্ষুব্ধ দর্শক।
আজ ১৪ সেপ্টেম্বর গুণী এই অভিনেতার ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী। ২০২০ সালের এই দিনে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পরও তার অভিনীত অসংখ্য চরিত্র দর্শকের হৃদয়ে অমলিন হয়ে আছে।
পাথর ছুড়ে মারার বিষয়ে এক সাক্ষাৎকারে সাদেক বাচ্চু বলেছিলেন, একটি জনপ্রিয় ধারাবাহিকে তিনি রাজাকারের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। নাটকের এক দৃশ্যে তার চরিত্র নির্মমভাবে একজনকে হত্যা করে। পর্বটি প্রচারের পরদিন বোনকে আনতে ট্রেনে জামালপুর স্টেশনে গেলে দর্শকরা তাকে দেখে উত্তেজিত হয়ে ওঠেন।
কেউ বাদামের খোসা ছুড়ে মারেন, আবার কেউ পাথর নিক্ষেপ করেন। পরে তিনি কোনোমতে সেখান থেকে সরে আসতে সক্ষম হন। অভিনেতার ভাষায়, মানুষ তাকে ঘৃণা করেনি; বরং তার অভিনীত চরিত্রটিকেই বাস্তব ভেবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল।
১৯৫৫ সালের ১ জানুয়ারি ঢাকায় জন্ম নেওয়া সাদেক বাচ্চুর আসল নাম মাহবুব আহমেদ। বাংলাদেশ ডাক বিভাগে চাকরি করলেও অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা থেকে মঞ্চ, বেতার ও টেলিভিশনে নিয়মিত কাজ করেছেন।
৯৭৪ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনের প্রথম অঙ্গীকার নাটকের মাধ্যমে ছোট পর্দায় যাত্রা শুরু হয় তার। পরে ১৯৮৫ সালে রামের সুমতি সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে।
ক্যারিয়ারের শুরুতে নায়ক হলেও পরে চাঁদনী সিনেমার মাধ্যমে খলনায়ক হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান। এরপর জজ ব্যারিস্টার পুলিশ কমিশনার, আনন্দ অশ্রু, প্রিয়জন, আমার প্রাণের স্বামীসহ অসংখ্য চলচ্চিত্রে শক্তিশালী নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের প্রশংসা কুড়ান।
দীর্ঘ অভিনয়জীবনের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৮ সালে তিনি শ্রেষ্ঠ খল অভিনেতা বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত অভিনয়ের প্রতি নিবেদিত থাকা এই শিল্পী আজও বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম সেরা চরিত্রাভিনেতা হিসেবে স্মরণীয়।