পটুয়াখালীতে মামলার আসামি না হয়েও ২০ দিন কারাভোগের পর জামিন পেয়েছেন জলিল হাওলাদার নামের এক নিরাপরাধ ব্যক্তি।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) পটুয়াখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট প্রথম আমলী আদালতের বিচারক আবু বক্কর সিদ্দিক তাকে জামিন প্রদান করেন। এর আগে পুলিশের অনিচ্ছাকৃত ভুলে গত ১৯ আগষ্ট ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৩ সালে ২ লাখ ৭৩ হাজার ৫১৩ টাকা পাওনা আদায়ের জন্য মহিপুর শিববাড়িয়ার মো. জলিল হাওলাদারের বিরুদ্ধে পটুয়াখালী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন মো. আলমগীর হোসেন নামের এক ব্যবসায়ী।
মামলার নথিতে বলা হয়, পাওনা পরিশোধের জন্য দেওয়া একটি চেক ২৭ মার্চ ২০২৩ অপর্যাপ্ত তহবিলের কারণে প্রত্যাখ্যাত হয়। এ মামলায় আদালত থেকে জারি করা ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে গত ১৯ আগস্ট নাম, বাবার নাম ও একই গ্রাম হওয়ায় নিরাপরাধ মো. জলিল হাওলাদারকে মহিপুর থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠান। তবে কারাভোগ করা জলিল হাওলাদারের সঙ্গে আসামি জলিল হাওলাদারের বাবার নাম এবং গ্রামের নাম এক হলেও মায়ের নাম ভিন্ন। কারাভোগ করা জলিলের মায়ের নাম হালিমা খাতুন আর আসামি জলিলের মায়ের নাম মাজেদা।
কারাভোগ করা জলিল হাওলাদারের জামাতা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমার শ্বশুরের চেক তো দূরের কথা কোন ব্যাংক একাউন্টই নেই। তারপরও তাকে ২০ দিন জেল খাটতে হয়েছে। পুলিশ কেন এধরনের ভুল করল। আমরা এর ক্ষতিপূরণের দাবি জানাচ্ছি।
কারাভোগ করা জলিল হাওলাদারের আইনজীবি অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির বলেন, পরিচয় যাচাইয়ে ভুলের কারণে জলিলকে এমন একটি মামলায় কারাভোগ করতে হয়েছে। এ মামলার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আজ আদালত তাকে জামিন দিয়েছেন। আর মহিপুর থানার ওসিকে আদালতে উপস্থিত হয়ে কারণ দর্শানোতে বলা হয়েছে।
পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাজেদুল ইসলাম সজল বলেন, ওয়ারেন্টে মায়ের নাম না থাকায় অনিচ্ছাকৃত এ ভুল হয়েছে। ঘটনা জানার পর ওই ব্যক্তির জামিনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। আজ আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেছেন। ওয়ারেন্ট তামিলে ভবিষ্যতে যাতে কোন ভুল না হয় তাই আসামির পূর্ণাঙ্গ তথ্য দেওয়ার জন্য আদালতের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।