ঢাকাভিত্তিক ডিজিটাল অনুসন্ধানমূলক সংবাদমাধ্যম দ্য ডিসেন্টে প্রকাশিত সিপিডির (সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ) একটি প্রতিবেদন অসত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে। গত ২৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত ‘নতুন সরকারের প্রথম ছয় মাস: একটি অর্থনৈতিক পর্যালোচনা’ শীর্ষক মিডিয়া সংলাপে জানানো হয়েছে, সরকারের ৬ মাসে ৬১ হাজার ৮৮১ জন কর্মহীন হয়েছেন, যা অসত্য প্রতিবেদন।
গবেষণা প্রতিবেদনে তথ্যগত বিভ্রান্তি ছিল বলে সোমবার (৩১ আগস্ট) বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছে সিপিডির গবেষণা দল। ভবিষ্যতে এ ধরনের তথ্যগত বিভ্রান্তি এড়াতে আরও সতর্ক থাকবে বলে জানিয়েছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থাটি। অনবধানতাবশত এই বিভ্রান্তি সৃষ্টির ফলে দুঃখ প্রকাশ করেছে সিপিডি।
সিপিডির উপস্থাপিত প্রতিবেদনের ১১ নম্বর স্লাইডে শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক অধ্যায়ে বলা হয়েছিল, জানুয়ারি থেকে আগস্ট ২০২৬ সময়কালে তিনটি প্রধান শিল্পাঞ্চলে (গাজীপুর, সাভার-আশুলিয়া এবং নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদী) ৯৫টি কারখানা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়। ফলে ৬১ হাজার ৮৮১ জন কর্মহীন হয়েছেন। এ বিষয়ে সোমবার (৩১ আগস্ট) প্রতিবেদনে তথ্যগত বিভ্রান্তির বিষয়ে সিপিডির (সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ) গবেষণা দল ব্যাখ্যা দিয়েছে।
সিপিডি জানায়, ‘প্রতিবেদনের গবেষণাপদ্ধতি’ অংশে বলা হয়েছিল যে এতে ব্যবহৃত তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে সংসদীয় ও মন্ত্রী পর্যায়ের বিবৃতি, জাতীয় বাজেট, গণমাধ্যমের প্রতিবেদন, সংবাদ বিজ্ঞপ্তি এবং ‘জনগণের সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক উৎসের সহায়তা নেওয়া হয়েছে।
উপরে উল্লেখিত শিল্পকারখানা সংক্রান্ত তথ্যটি ২২ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ঢাকা ট্রিবিউনে ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি সংবাদ থেকে নেওয়া হয়েছিল (২৫ আগস্ট বিকেল ৪টা ৩৪ মিনিটে সংবাদমাধ্যমটি প্রতিবেদনটি সংশোধন করে)।
সিপিডি জানায়, প্রতিবেদন তৈরির সময় আমাদের পক্ষ থেকে তথ্যটির মূল উৎস যাচাই করা হয়নি।
পরবর্তী সময়ে দেখা যায়, ঢাকা ট্রিবিউনের আগের সংবাদটিতে ৫ মার্চ ২০২৫ তারিখে প্রথম আলোয় প্রকাশিত একটি সংবাদের মূল সময়কাল পরিবর্তন করে জানুয়ারি থেকে আগস্ট ২০২৬ উল্লেখ করে। এর ফলে এই বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। অনবধানতাবশত বিভ্রান্তি সৃষ্টির ফলে আমরা (সিপিডি) দুঃখ প্রকাশ করছি।
উল্লেখ করা প্রয়োজন যে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন ও তাদের নেতারা শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়ে বক্তব্য দিয়ে আসছেন, যা আমাদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এ কারণেই আমরা বিষয়টি তুলে ধরেছি। উল্লেখ করা তথ্যে বিভ্রান্তি থাকলেও অর্থনীতির এই বিষয়ে আমাদের উদ্বেগ অমূলক নয়। আমরা মনে করি এক্ষেত্রে সরকারের বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন।
সিপিডির গবেষণা দল ভবিষ্যতে এ ধরনের তথ্যগত বিভ্রান্তি এড়াতে আরও সতর্ক থাকবে। একই সঙ্গে বিষয়টি আমাদের নজরে আনার জন্য দ্য ডিসেন্টকে তাদের পেশাদারিত্বের জন্য ধন্যবাদ জানায় সিপিডি।