কোরবানির ঈদ সামনে রেখে নড়াইলে খামারগুলোয় চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। ভালো দামে গরু বিক্রির আশায় ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারিরা। জেলার কালিয়া উপজেলার খড়রিয়া গ্রামের রাহুল-রিয়া এগ্রো ফার্মে কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ২২টি ষাঁড়। এর মধ্যে ২১টি সাহিওয়াল এবং একটি ফ্রিজিয়ান-সাহিওয়াল জাতের। তবে সবার নজর কেড়েছে বিশাল আকৃতির ‘বাহুবালী’ নামের একটি ষাঁড়।
প্রায় ২৮ মণ ওজন, ১৪ ফুট দৈর্ঘ্য এবং ৬ ফুট উচ্চতার ‘বাহুবালী’কে ঘিরে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল। ১১০০ কেজি ওজনের বিশাল এ ষাঁড়টির শান্ত স্বভাব ও রাজকীয় গঠন এরই মধ্যে স্থানীয়দের নজর কেড়েছে। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ গরুটি দেখতে ভিড় করছেন খামারটিতে। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন, আবার কেউ সম্ভাব্য দাম ও ওজন নিয়ে আলোচনা করছেন।
খামারি রিপন মিয়া জানান, প্রায় আড়াই বছর ধরে তিনি ও তার স্ত্রী রোজিনা পারভীন সন্তানের মতো যতœ করে গরুটিকে লালন-পালন করেছেন। প্রতিদিন গোসল, নিয়মিত পরিচর্যা ও পুষ্টিকর খাবারের মাধ্যমে ধীরে ধীরে বড় করা হয়েছে ‘বাহুবালী’কে। তিনি বলেন, ‘আমার খামারে আরও ২১টি গরু রয়েছে। তবে সবার আগ্রহ এখন বাহুবালীকে ঘিরেই। এবারের কোরবানির হাটে অন্তত ১০ লাখ টাকা দাম আশা করছি।’
রিপন মিয়ার স্ত্রী রোজিনা পারভীন বলেন, ‘প্রায় আড়াই বছর আগে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার একটি হাট থেকে ছোট অবস্থায় গরুটিকে কিনে আনা হয়েছিল। তখন এর ওজন ছিল প্রায় ২০০ কেজি। নিয়মিত যতœ আর পুষ্টিকর খাবার খাইয়ে ধীরে ধীরে বড় করা হয়েছে। বিশাল আকৃতির কারণেই ওর নাম রাখা হয়েছে বাহুবালী।’
তিনি আরও জানান, গরুটির খাবারের তালিকায় রয়েছে খোল, ভুসি, খড়, চিটাগুড়, কাঁচাঘাসসহ বিভিন্ন পুষ্টিকর খাদ্য। কোনো ধরনের ক্ষতিকর ওষুধ বা মোটাতাজাকরণ ইনজেকশন ব্যবহার করা হয়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ‘বাহুবালী’ এখন শুধু খড়রিয়া গ্রামের নয়, পুরো এলাকার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এসে গরুটি দেখছেন। বিশেষ করে শিশু ও তরুণদের মধ্যে গরুটিকে নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে।
নড়াইল জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রাশেদুল হক বলেন, ‘আমাদের জানা মতে, বাহুবালীই জেলায় সবচেয়ে বড় গরু। খামারি প্রাকৃতিক উপায়ে গরুটি লালন-পালন করেছেন। আমরা আশা করছি, তিনি ন্যায্যমূল্য পাবেন।’