মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ১০:০৭ অপরাহ্ন

মাওলানা তৌসিফকে ট্রেন থেকে ফেলে হত্যা: নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি ওয়াইসির

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬

রেলমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে ওয়াইসি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি নিহতের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ এবং পরিবারের একজনকে সরকারি চাকরির দাবি জানিয়েছেন।

ওয়াইসি তার চিঠিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এই ধরনের সাম্প্রদায়িক ঘটনাগুলোকে বারবার ‘দুর্ঘটনা’ বলে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি জানান, বেরেলি থেকে উরস-এ-তাজুশ শরিয়া অনুষ্ঠান সেরে ০৪৩১৪ নম্বর ট্রেনে ফেরার সময় মাওলানা তৌসিফ আক্রান্ত হন।

ওয়াইসি বলেন, “মাওলানা তৌসিফ রাজা মাঝারির মৃত্যু রেলওয়ের নিরাপত্তা কাঠামোর মধ্যে ঘটে যাওয়া সাম্প্রদায়িক সহিংসতার আরেকটি উদাহরণ।” তিনি অভিযোগ করেন যে, প্রাথমিক প্রতিবেদনে এটিকে দুর্ঘটনাজনিত পড়ে যাওয়া বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল এবং পরিবারের অভিযোগের পরেই কেবল মামলা দায়ের করা হয়।

বিহারের কিষাণগঞ্জের বাসিন্দা মাওলানা তৌসিফ পেশায় একজন ইমাম ও মাদরাসা শিক্ষক ছিলেন। তার পরিবারের অভিযোগ, একদল যাত্রী তাকে চুরির অপবাদ দিয়ে প্রচণ্ড মারধর করে। নিহতের স্ত্রী তাবাসসুম খাতুন জানান, একটি ভিডিও কলের সময় তিনি হামলার দৃশ্য সরাসরি দেখেছেন।

তিনি বলেন, “তিনি (তৌসিফ) ট্রেন থেকে আমাকে ফোন করে বলেছিলেন তাকে মারধর করা হচ্ছে। আমি ভিডিওতে দেখলাম মানুষ তাকে থাপ্পড় মারছে এবং টেনে নিয়ে যাচ্ছে। তিনি বারবার বলছিলেন তিনি একজন শিক্ষক, কিন্তু কেউ তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেনি।” তাবাসসুমের অভিযোগ, দাড়ি ও টুপি দেখে তার ধর্মীয় পরিচয়ের কারণেই তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল।

বারেলি পুলিশ জানিয়েছে, গত ২৭ এপ্রিল রেললাইনের পাশ থেকে একটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে সেটিকে তৌসিফ রাজার দেহ হিসেবে শনাক্ত করা হয়। এসপি (সিটি) মানুষ পারিক জানান, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনাজনিত পড়ে যাওয়া বলে মনে করা হয়েছিল। তবে ৩০ এপ্রিল পরিবারের আপত্তির পর পুলিশ আইনি পদক্ষেপ ও অধিকতর তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনা নিয়ে সরব হয়েছেন বিরোধী রাজনৈতিক নেতারাও। সংসদ সদস্য মহম্মদ জাভেদ এবং ইমরান প্রতাপগড়ি এই ঘটনাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে বর্ণনা করেছেন। চন্দ্রশেখর আজাদ রাবণ পুলিশের বয়ান এবং পরিবারের দাবির মধ্যে অসংগতির দিকে আঙুল তুলে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।

আসাদউদ্দিন ওয়াইসি তার চিঠিতে জোর দিয়ে বলেন, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ভারতীয় রেলের দায়িত্ব। তৌসিফ ছিলেন তার পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার অকাল মৃত্যুতে তার বিধবা স্ত্রী ও সন্তানরা অসহায় হয়ে পড়েছেন। তাই ন্যায়বিচারের স্বার্থে এবং রেলের নিরাপত্তার ওপর জনমনে আস্থা ফেরাতে পরিবারটিকে আর্থিক সহায়তা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102