তামিলনাড়ুর তিরুপ্পাত্তুর বিধানসভা আসনে ২০২৬ সালের নির্বাচনে এক নজিরবিহীন ও নাটকীয় ফলাফল দেখা গেছে। নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত সরকারি ফল অনুযায়ী, দ্রাবিড় মুন্নেত্রা কাজাগাম (ডিএমকে)-এর প্রবীণ নেতা ও রাজ্য সরকারের মন্ত্রী কে আর পেরিয়াকারুপ্পান মাত্র এক ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন।
নবগঠিত তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম (টিভিকে)-এর প্রার্থী শ্রীনিবাস সেতুপতি ৮৩,৩৭৫ ভোট পেয়ে জয়ী হন। অন্যদিকে ডিএমকে প্রার্থী পেরিয়াকারুপ্পান পান ৮৩,৩৭৪ ভোট। অর্থাৎ ব্যবধান মাত্র একটি ভোট।
১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এই আসনে। উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে ছিলেন বিজেপি প্রার্থী থিরুমরণ কেসি, এআইএডিএমকে প্রার্থী উমাদেবী এস, এনটিকে প্রার্থী রম্যা মোহন এবং একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী।
এবারের নির্বাচনে তিরুপ্পাত্তুরে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৮০.৭৮ শতাংশ, যা অত্যন্ত উচ্চ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
ভোট গণনার শুরু থেকেই দুই প্রধান প্রার্থীর মধ্যে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলতে থাকে। শেষ রাউন্ড পর্যন্ত এগিয়ে ছিলেন ডিএমকে প্রার্থী পেরিয়াকারুপ্পান। তবে চূড়ান্ত রাউন্ডে পরিস্থিতি বদলে যায় এবং একেবারে শেষ মুহূর্তে ব্যবধান গিয়ে দাঁড়ায় মাত্র এক ভোটে।
এত অল্প ব্যবধানে পুনর্গণনার দাবি উঠলেও শেষ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন ফলাফল অপরিবর্তিত রাখে।
অভিষেক নির্বাচনে বড় সাফল্য পেয়েছে থালাপতি বিজয়ের নেতৃত্বাধীন টিভিকে। দলটি মোট ২৩৪টি আসনের মধ্যে ১০৮টি আসনে জয় লাভ করে রাজ্যে উল্লেখযোগ্য অবস্থান তৈরি করেছে।
অন্যদিকে ডিএমকে ৫৯টি এবং এআইএডিএমকে ৪৭টি আসন পেয়ে যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে।
এই ফলাফল ঘিরে আরও আলোচনার জন্ম দিয়েছে একজন প্রবাসী ভোটারের দাবি। শিবগঙ্গা জেলার বাসিন্দা মনিকন্দন শিবানান্থম, যিনি ওমানের মাসকটে কর্মরত, নির্বাচনের সময় দেশে ফিরে ভোট দেন।
ফল ঘোষণার পর তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, তার ভোটই নাকি এই আসনে জয়-পরাজয়ের ব্যবধান নির্ধারণ করেছে। এই দাবি রাজনৈতিক মহলেও আলোচনার সৃষ্টি করেছে।