মার্কিন স্বল্পমূল্যের বিমান সংস্থা স্পিরিট এয়ারলাইনস কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। সরকারি সহায়তা বা বেইলআউট না পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। শনিবার (২ মে) ভোরে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
কোম্পানির মূল প্রতিষ্ঠান স্পিরিট অ্যাভিয়েশন হোল্ডিংস জানিয়েছে, তারা পরিকল্পিতভাবে কার্যক্রম বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু করেছে এবং সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। যাত্রীদের বিমানবন্দরে না যাওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। যারা আগেই টিকিট কেটেছেন, তারা অর্থ ফেরত পাবেন, তবে অন্য কোনো এয়ারলাইন্সে ফ্লাইট পুনর্বুকিংয়ের সুবিধা দেওয়া হবে না।
স্পিরিটের প্রেসিডেন্ট ও সিইও ডেভ ডেভিস বলেন, কোম্পানি পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিলেও হঠাৎ করে জ্বালানির দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হয়নি। তিনি জানান, কার্যক্রম চালিয়ে যেতে অতিরিক্ত বিপুল অর্থের প্রয়োজন ছিল, যা জোগাড় করা যায়নি।
সম্প্রতি ইরানকে ঘিরে সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল ও গ্যাস রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হয়, যার ফলে জ্বালানির দাম দ্রুত বেড়ে যায়।
ডেভিস আরও জানান, কর্মসংস্থান টিকিয়ে রাখতে ও সেবা চালু রাখতে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলারের একটি সম্ভাব্য বেইলআউট নিয়ে আলোচনা হয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি।
সংস্থাটি আরও জানায়, কোভিড-১৯ মহামারির পর থেকে বাড়তি ব্যয় ও ঋণের চাপ মিলিয়ে তারা ২৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ২০২৪ সালের নভেম্বরে তারা দেউলিয়া সুরক্ষার জন্য আবেদন করেছিল।
অন্যদিকে, মার্কিন আইনপ্রণেতাদের একটি অংশ সরকারি সহায়তার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তাদের মতে, বেইলআউট দিলে করদাতাদের অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হয় না এবং এতে বাজারের প্রতিযোগিতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, স্পিরিট এয়ারলাইনসের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের বিমান পরিবহন খাতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে কম খরচে বিমান ভ্রমণের সুযোগ কমে যাওয়ায় সাধারণ যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।