ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ-অবরোধ বাস্তবায়নে মার্কিন নৌবাহিনী অনেকটা ‘জলদস্যুর’ কৌশলে কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি সমুদ্রে ইরানের কয়েকটি জাহাজ জব্দ করার ঘটনা তুলে ধরতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ওয়াশিংটন ডিসিতে শুক্রবার সন্ধ্যায় দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানি জাহাজ আটক করে, তাদের পণ্য ও তেল জব্দ করছে যা তার ভাষায় অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক পদক্ষেপ। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং এই পদক্ষেপগুলো কেবল প্রতীকী নয়, বাস্তব প্রয়োগের অংশ।
সম্প্রতি ইরানি বন্দর ত্যাগ করা কয়েকটি জাহাজ মার্কিন বাহিনী আটক করেছে। এর মধ্যে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা একটি পণ্যবাহী জাহাজ এবং এশিয়ার জলসীমায় থামিয়ে দেওয়া একটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারও রয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর জবাবে ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে। যদিও নিজেদের জাহাজ চলাচল অব্যাহত রাখে তেহরান। পরে ১৩ এপ্রিল ট্রাম্প প্রশাসন ইরানি বন্দরগুলোর ওপর আলাদা অবরোধ আরোপ করে।
বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালিতে সংকট তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের দামে অস্থিরতা বেড়েছে। এর প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও।
এদিকে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়তে থাকায় দেশীয় রাজনীতিতেও চাপের মুখে পড়েছেন ট্রাম্প। এর আগে ইরানের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বেসামরিক স্থাপনায় হামলার হুমকি দিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন।