রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ০৫:১৭ অপরাহ্ন

হরমুজ অবরোধ, ইরানের নতুন বাণিজ্য পথ উন্মুক্ত হলো পাকিস্তানে

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২ মে, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সামুদ্রিক অবরোধে ইরানের বন্দর কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়ার পর তেহরানমুখী আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহনে নতুন বিকল্প হিসেবে পাকিস্তান ছয়টি স্থলপথ চালু করেছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে করাচি বন্দরে আটকে থাকা বিপুলসংখ্যক কন্টেইনার ইরানে পাঠানোর পথ সহজ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

২৫ এপ্রিল পাকিস্তানের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ‘ট্রানজিট অব গুডস থ্রু টেরিটরি অব পাকিস্তান অর্ডার ২০২৬’ জারি করে, যা সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হয়। নতুন ব্যবস্থায় তৃতীয় দেশ থেকে আসা পণ্য পাকিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করে সড়কপথে ইরানে পৌঁছাতে পারবে।

নির্ধারিত রুটগুলো করাচি, পোর্ট কাসিম ও গোয়াদরের মতো গুরুত্বপূর্ণ বন্দরকে ইরানের গাবদ ও তাফতান সীমান্তের সঙ্গে যুক্ত করেছে। এসব পথ বেলুচিস্তানের তুরবত, পাঞ্জগুর, খুজদার, কোয়েটা ও দালবান্দিন হয়ে গেছে। এর মধ্যে গোয়াদর-গাবদ করিডোর সবচেয়ে দ্রুততম, যেখানে সীমান্তে পৌঁছাতে সময় লাগবে মাত্র কয়েক ঘণ্টা। তুলনামূলকভাবে করাচি থেকে একই গন্তব্যে যেতে সময় লাগে প্রায় ১৬ থেকে ১৮ ঘণ্টা। কর্মকর্তারা বলছেন, এই সংক্ষিপ্ত রুট ব্যবহারে পরিবহন ব্যয় প্রায় অর্ধেক পর্যন্ত কমে যেতে পারে।

এ পদক্ষেপের সময়টিও তাৎপর্যপূর্ণ। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সম্প্রতি ইসলামাবাদে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। একই সময়ে ওয়াশিংটন-তেহরান উত্তেজনা প্রশমনে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে।

পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী জাম কামাল খান এই উদ্যোগকে আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং পাকিস্তানকে একটি কৌশলগত বাণিজ্য করিডোর হিসেবে আরও শক্তিশালী করার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

তবে ভারতীয় পণ্য এই ট্রানজিট সুবিধার বাইরে রাখা হয়েছে। ২০২৫ সালে ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের পর জারি হওয়া নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী, ভারতীয় পণ্য পাকিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করে পরিবহন করা যাবে না।

গত ১৩ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ-অবরোধ আরোপের পর দেশটির সামুদ্রিক সরবরাহ ব্যবস্থা বড় ধরনের চাপে পড়ে। এরপর থেকেই করাচি বন্দরে ইরানমুখী তিন হাজারের বেশি কন্টেইনার জমে আছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের পশ্চিমমুখী বাণিজ্য কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আনতে পারে। বিশেষজ্ঞ ইফতিখার ফিরদৌসের ভাষ্য, এতে আফগানিস্তানকে পাশ কাটিয়ে পাকিস্তান বিকল্প বাণিজ্য পথ শক্তিশালী করতে পারবে এবং পশ্চিম এশিয়ার সঙ্গে সংযোগে নতুন কৌশলগত সুবিধা পাবে।

অন্যদিকে নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে। পেশোয়ারভিত্তিক বিশ্লেষক মিনহাস মাজিদ মারওয়াত মনে করেন, উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্ত অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হলে এই সম্ভাবনাময় উদ্যোগ বাস্তবায়নে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102