সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবারের প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবা সহজতর করতে এক যুগান্তকারী সংস্কারের প্রস্তাব করা হয়েছে। ‘তাৎক্ষণিক ব্যয় পরিশোধ (ক্যাশলেস)’ এবং ‘ইউনিক হেলথ আইডি’ ভিত্তিক এই মডেলটি বাস্তবায়িত হলে চিকিৎসার জন্য নগদ অর্থের দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পাবেন কর্মচারীরা। ইতোমধ্যে জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫-এ এই প্রস্তাবটি উপস্থাপন করা হয়েছে।
বর্তমানে সরকারি কর্মচারীদের চিকিৎসা-পরবর্তী বিল পরিশোধ একটি দীর্ঘমেয়াদী ও জটিল প্রক্রিয়া। এই আর্থিক জটিলতা নিরসনে বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড এবং সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের সমন্বয়ে একটি আধুনিক কাঠামো তৈরির প্রস্তাব করা হয়েছে। গত ২৫ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে জাতীয় পে কমিশনের সভায় বিদ্যুৎ সচিব ফারজানা মমতাজ এই সংস্কার প্রস্তাবটি উপস্থাপন করেন। উচ্চপর্যায়ের সচিবরা এই মানবিক উদ্যোগের প্রতি ইতিবাচক সমর্থন জানিয়েছেন।
এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকারের ওপর বাড়তি কোনো আর্থিক চাপের প্রয়োজন হবে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডে কর্মচারীদের নিজস্ব চাঁদা থেকে জমা হওয়া প্রায় হাজার কোটি টাকার একটি স্থিতিশীল তহবিল রয়েছে। এই বিদ্যমান তহবিল এবং নিয়মিত অবদান ব্যবহার করেই কোনো বাড়তি সরকারি বরাদ্দ ছাড়াই সফলভাবে ক্যাশলেস সেবা পরিচালনা করা সম্ভব।
জাতীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নের আগেই কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি ক্ষুদ্র পরিসরে এই কর্মসূচি শুরু করেছে। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ‘স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম বাস্তবায়ন, পরিচালনা ও নির্দেশিকা ২০২৫’ অনুমোদিত হয়েছে। এর ফলে কৃষি পরিবারের সদস্যরা ক্যানসারের মতো জটিল রোগের জন্য আর্থিক অনুদান, সুদমুক্ত চিকিৎসা ঋণ এবং জরুরি রক্তদাতা ব্যবস্থাপনার মতো সুবিধা পাচ্ছেন। এ ছাড়া মৃত্যুজনিত পরিস্থিতিতে মৃতদেহ পরিবহন ও সৎকারে লজিস্টিক সহায়তার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের এই উদ্যোগ আমলাতান্ত্রিক স্থবিরতার বিপরীতে একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। বর্তমানে গুরুতর অসুস্থতার চিকিৎসায় অনেক কর্মচারীকে ঋণগ্রস্ত হতে হয়। ‘ইউনিক হেলথ আইডি’র মাধ্যমে অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেম চালু হলে সেই আর্থিক বিপর্যয় রোধ করা সম্ভব হবে।
এই বৈপ্লবিক পরিবর্তনটি সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে সংশ্লিষ্টরা এখন যথাযথ কর্তৃপক্ষের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। এটি বাস্তবায়িত হলে দেশের সরকারি সেবা খাতে একটি নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল স্বাস্থ্য কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হবে।