রাজধানীসহ সারাদেশে নিরাপদ পানির ক্রমবর্ধমান সংকট ও ওয়াসার পানির মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নিরাপদ পানির প্রাপ্যতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।
ওয়াসার পানি নিয়ে মন্ত্রীর আক্ষেপ
আলোচনা সভায় ওয়াসার পানির গুণগত মান নিয়ে সাধারণ মানুষের অভিযোগের কথা স্মরণ করে মন্ত্রী বলেন, “ওয়াসার পানির মান নিয়ে যখন নেতিবাচক কথা শুনি, তখন খুব কষ্ট হয়।” এ প্রসঙ্গে তিনি জাতীয় সংসদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে জানান যে, এমনকি চিফ হুইপও সংসদের পানির মান নিয়ে তার কাছে অভিযোগ করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, ঢাকা শহরের বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো নিরাপদ পানি নিশ্চিত করা।
ভূগর্ভস্থ পানির বিকল্প ও পরিবেশ রক্ষা
পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া রোধে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় মন্ত্রী বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ প্রদান করেন:
সারফেস ওয়াটার: ডিপ টিউবওয়েলের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে সারফেস ওয়াটার বা উপরিভাগের পানির ব্যবহার বাড়াতে হবে।
বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ: বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের (Rainwater Harvesting) মাধ্যমে পানির চাহিদা মেটানোর ওপর জোর দেন তিনি।
নদী দূষণ রোধ: দেশের নদীগুলোকে দূষণমুক্ত রাখতে দ্রুত এবং কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার বিকল্প নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন
সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা এবং দামী যানবাহন সবই জনগণের করের টাকায় সংস্থান করা হয়। তাই জনগণের সমস্যার সমাধান করা এবং তাদের মৌলিক অধিকারগুলো নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।
নিরাপদ পানির অভাবকে একটি বৈশ্বিক সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “সারা বিশ্বে নিরাপদ পানির জন্য হাহাকার চলছে। অনেক দেশেই পানি নিয়ে দ্বন্দ্ব-সংঘাতের সৃষ্টি হচ্ছে।” তিনি আরও সতর্ক করে বলেন যে, পৃথিবীর পরবর্তী মহাযুদ্ধ নিরাপদ পানির সংকটকে কেন্দ্র করেই হতে পারে, এমন আলামত ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী পানি ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। পরিবর্তন আনার দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে নিয়ে নদী রক্ষা ও নিরাপদ পানি নিশ্চিত করার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ সংকট মোকাবিলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।