ফিলিপাইন
জ্বালানি সংকটের ভয়াবহতায় ফিলিপাইন সরকার ইতিমধ্যে ‘জাতীয় জ্বালানি জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করেছে। দেশটির ঐতিহ্যের প্রতীক ‘জিপনি’ চালকরা এখন সবচেয়ে বেশি বিপাকে।
ম্যানিলার চালক কার্লোস ব্রাগাল জানান, আগে যেখানে ১২ ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে তিনি ১,২০০ পেসো আয় করতেন, এখন তা নেমে এসেছে মাত্র ২০০ পেসোতে। তেলের দাম এত বেড়েছে যে, গাড়ি চালানোই এখন দায় হয়ে পড়েছে।
থাইল্যান্ড
জ্বালানি সাশ্রয়ে থাইল্যান্ডের সরকারি দপ্তরগুলোতে অদ্ভুত সব নিয়ম জারি করা হয়েছে। নাগরিকদের এসি ২৬-২৭ ডিগ্রিতে রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এমনকি থাই পিবিএস’র নিউজ প্রেজেন্টার সিরিমা সংকলিন সংবাদ পাঠের সময় নিজের ব্লেজার খুলে দর্শকদের বার্তা দিয়েছেন—তীব্র গরমেও যেন তারা কম কাপড় পরে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করেন।
থাই প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, ইরানের সাথে কিছু ট্যাঙ্কার ছাড়ার বিষয়ে সমঝোতা হলেও জনগণকে কারপুলিং ও গণপরিবহন ব্যবহারে অভ্যস্ত হতে হবে।
শ্রীলঙ্কা
২০২২ সালের ভয়াবহ আর্থিক সংকট কাটিয়ে ওঠা শ্রীলঙ্কা নতুন করে বিপদে পড়েছে। কলম্বোর অধিবাসীদের মতে, গতবার তাদের কাছে তেল কেনার টাকা ছিল না, আর এবার টাকা থাকলেও বাজারে তেল নেই। জ্বালানি বাঁচাতে দেশটিতে প্রতি বুধবার সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
কিন্তু দিনমজুরদের জন্য এই ছুটি কোনো সুসংবাদ আনেনি। পেট্রোলের লাইনে দাঁড়িয়ে দিন পার করায় তাদের আয় প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে, যা তাদের পরিবারকে অনাহারে ঠেলে দিচ্ছে।
ভারত
বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ ভারত তার মোট এলপিজি বা রান্নার গ্যাসের প্রায় ৬০ শতাংশ আমদানি করে এবং এর ৯০ শতাংশই আসে হরমুজ প্রণালি দিয়ে। গ্যাসের তীব্র সংকটে গুজরাটের সিরামিক শিল্প প্রায় এক মাস ধরে বন্ধ।
এতে প্রায় ৪ লাখ শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। মুম্বাইয়ের মতো মেগাসিটিতে ২০ শতাংশ রেস্তোরাঁ আংশিক বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক জায়গায় রান্নার গ্যাস না থাকায় যেসব খাবার তৈরিতে বেশি সময় লাগে, তা মেনু থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান
পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে তৈরি হয়েছে ভিন্নধর্মী সংকট। অপরিশোধিত তেল থেকে তৈরি রাসায়নিক ‘ন্যাপথা’র অভাবে দক্ষিণ কোরিয়ায় আবর্জনা ফেলার প্লাস্টিক ব্যাগের সংকট দেখা দিয়েছে। সিউলের বাসিন্দারা আতঙ্কে এই ব্যাগ মজুত করতে শুরু করেছেন।
অন্যদিকে জাপানে ন্যাপথার অভাবে সিরিঞ্জ, গ্লাভস ও ডায়ালিসিস সরঞ্জামের মতো জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা সামগ্রীর ঘাটতি দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সমুদ্রগামী ট্রলারগুলো তেলের অভাবে মাছ ধরতে যেতে পারছে না। ফলে বাজারে মাছের দামও বাড়ছে পাল্লা দিয়ে।
ভিয়েতনাম
ভিয়েতনাম সরকার তেলের ওপর থেকে কর প্রত্যাহার করে দাম ২০ শতাংশ কমালেও সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘব হয়নি। হো চি মিন সিটির কারখানাগুলোতে উৎপাদন খরচ ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গেছে।
পণ্য সরবরাহের খরচ বাড়ায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা এখন ক্রেতাদের কাছে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করতে বাধ্য হচ্ছেন, যা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে।







