শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০৬ পূর্বাহ্ন

ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম আদমশুমারি শুরু: জাতিগত গণনা নিয়ে বাড়ছে বিতর্ক

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬

বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ ভারতে শুরু হয়েছে ইতিহাসের বৃহত্তম আদমশুমারি। দীর্ঘ পাঁচ বছর বিলম্বের পর শুরু হওয়া এই বিশাল কর্মযজ্ঞে প্রথমবারের মতো যুক্ত হচ্ছে ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং প্রায় এক শতাব্দী পর ফিরছে বিতর্কিত ‘জাতিগত গণনা’ (Caste Census)। ১.২৪ বিলিয়ন ডলারের এই প্রকল্পে প্রায় ৩০ লাখ সরকারি কর্মকর্তা ভারতের ১৪০ কোটি মানুষের দ্বারে দ্বারে যাবেন।

এবারের শুমারিটি হবে সম্পূর্ণ ডিজিটাল। গণনাকারীরা স্মার্টফোন এবং মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে তথ্য সংগ্রহ করবেন। সাধারণ নাগরিকরা চাইলে অনলাইনে ‘সেলফ-এনিউমারেশন’ বা নিজস্ব তথ্য নিজেই নিবন্ধনের সুযোগ পাবেন। দুই ধাপে পরিচালিত এই কার্যক্রমের প্রথম ধাপে বাড়িঘর ও জীবনযাত্রার মান নিয়ে ৩৩টি প্রশ্ন করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে অর্থাৎ ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে আর্থ-সামাজিক অবস্থা, শিক্ষা ও জাতিগত পরিচয় লিপিবদ্ধ করা হবে।

এই আদমশুমারির সবচেয়ে আলোচিত ও বিতর্কিত দিক হলো ‘জাতিগত গণনা’। ১৯৩১ সালের পর ভারতে আর কখনও বিস্তারিত জাতিগত তথ্য সংগ্রহ করা হয়নি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার দীর্ঘকাল এর বিরোধিতা করলেও বিরোধী দল ও বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীর চাপের মুখে অবশেষে এটি অন্তর্ভুক্ত করেছে।

সমর্থকদের মতে, সঠিক জাতিগত তথ্য ছাড়া সরকারি সুযোগ-সুবিধার সুষম বণ্টন এবং অনগ্রসরদের জন্য নীতি নির্ধারণ করা অসম্ভব। অন্যদিকে বিরোধীদের আশঙ্কা, এই তথ্য ভারতীয় সমাজে বিভেদ আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং রাজনীতির মেরুকরণ ঘটাতে পারে।

আদমশুমারির তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ভারতের নির্বাচনী আসন বা সংসদীয় সীমানা পুনর্নির্ধারণ (Delimitation) করা হবে। দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলো আশঙ্কা করছে, উত্তর ভারতের জনসংখ্যা দ্রুত বাড়ায় সীমানা পুনর্নির্ধারণের পর সংসদের নিয়ন্ত্রণ উত্তর ভারতের হাতে চলে যাবে, যা দীর্ঘদিনের উত্তর-দক্ষিণ আঞ্চলিক উত্তেজনাকে আরও উসকে দিতে পারে।

২০১১ সালের পর ২০২১ সালে এই শুমারি হওয়ার কথা থাকলেও করোনা মহামারি ও প্রশাসনিক জটিলতায় তা পিছিয়ে যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত এক দশকে ভারতের অর্থনীতি ও জনসংখ্যায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। পুরনো তথ্যের ওপর ভিত্তি করে পরিকল্পনা করতে গিয়ে নীতি নির্ধারকরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।

আদমশুমারির এই তথ্য ভারতের বিতর্কিত এনআরসি (NRC) বা জাতীয় নাগরিক পঞ্জি তৈরিতে ব্যবহার করা হতে পারে বলে অনেক মানবাধিকার কর্মী ও সংখ্যালঘু গোষ্ঠী উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (CAA) প্রেক্ষাপটে এই শুমারি অনেক সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি তৈরি করেছে।

আগামী ২০২৭ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে এই বিশাল কার্যক্রম সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ভারত সরকার। এর মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে দক্ষিণ এশিয়ার এই পরাশক্তির আগামীর রাজনৈতিক ও সামাজিক গতিপথ।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102