ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের মধ্যে হজ অন্যতম। প্রতিবছর জিলহজ মাসে সামর্থ্যবান মুসলমানরা আল্লাহর ঘরে উপস্থিত হয়ে এই ইবাদত সম্পন্ন করেন। তবে জনমনে প্রায়ই প্রশ্ন- হজ কি সবার জন্যই ফরজ? বিশেষ করে যারা অতি দরিদ্র, যাদের ‘নুন আনতে পান্তা ফুরায়, কিন্তু মহান আল্লাহর ইবাদতে তাদের মনোবল অটুট’। তাদের জন্য হজের বিধান কী?
হজ কখন ফরজ হয়?
ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, হজ কেবল সেই ব্যক্তির ওপর ফরজ যার শারীরিক এবং আর্থিক সামর্থ্য (এস্তাতায়াত) রয়েছে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: “মানুষের মধ্যে যার সেখানে (বায়তুল্লাহ) যাওয়ার সামর্থ্য আছে, আল্লাহর উদ্দেশ্যে ওই ঘরের হজ করা তার ওপর ফরজ।” (সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ৯৭)
দরিদ্রদের জন্য কি হজ ফরজ?
না, দরিদ্রদের ওপর হজ ফরজ নয়। ইসলাম একটি বাস্তবসম্মত ও সহজ ধর্ম। হজের জন্য শর্ত হলো—একজন ব্যক্তির কাছে তার প্রয়োজনীয় খরচ, পরিবারের ভরণপোষণ এবং যাতায়াতের পাথেয় অতিরিক্ত হিসেবে থাকতে হবে। যার এই আর্থিক সক্ষমতা নেই, তার ওপর হজ আদায় না করার জন্য কোনো গুনাহ হবে না।
দরিদ্র মুমিনদের জন্য শান্ত্বনা ও সওয়াব
অনেকেই ব্যথিত হন যে, অগাধ ভক্তি থাকা সত্ত্বেও অর্থাভাবে তারা কাবা শরিফ জিয়ারত করতে পারছেন না। তবে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস অনুযায়ী, খাঁটি নিয়ত এবং নির্দিষ্ট কিছু আমলের মাধ্যমে দরিদ্ররা হজের সমান সওয়াব পেতে পারেন: যেমন
পিতা-মাতার সেবা: হাদিসে এসেছে, পিতা-মাতার দিকে দয়া ও মহব্বতের দৃষ্টিতে তাকালে একটি কবুল হজের সওয়াব পাওয়া যায়।
মসজিদে জামায়াতে নামাজ: ওজু করে মসজিদে ফরজ নামাজ আদায়ের জন্য যাওয়া ইহরাম বেঁধে হজে যাওয়ার সওয়াবের সমতুল্য (আবু দাউদ)।
জিকির ও তসবিহ: একবার দরিদ্র সাহাবীরা রাসুল (সা.)-এর কাছে এসে দুঃখ প্রকাশ করলেন যে, ধনীরা দান-সদকা ও হজ করে অনেক সওয়াব নিয়ে যাচ্ছে। তখন নবীজি (সা.) তাদের প্রতি নামাজের পর ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ এবং আল্লাহু আকবার পড়ার পরামর্শ দেন, যা তাদের হজের ঘাটতি পূরণে সাহায্য করবে।
ইসলামের মূল সৌন্দর্য হলো এর ন্যায়বিচার। ধনীদের ওপর হজ ফরজ করা হয়েছে তাদের সম্পদ আল্লাহর পথে ব্যয় করার পরীক্ষা হিসেবে। অন্যদিকে, দরিদ্রদের ওপর এটি চাপিয়ে দেওয়া হয়নি। বরং তাদের সবর (ধৈর্য) এবং একনিষ্ঠ ইবাদতের জন্য পরকালে রয়েছে বিশেষ মর্যাদা।
তাই আর্থিক সংকটে থাকা মুমিনদের হতাশ হওয়ার কারণ নেই। আল্লাহ নিয়তের মালিক; যদি কারো মনে তীব্র আকাঙ্ক্ষা থাকে কিন্তু সামর্থ্য না থাকে, আল্লাহ তার আন্তরিকতার বিনিময়েই তাকে হজের সওয়াব দান করতে পারেন।