জ্বালানি ব্যবহারে সংযমী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে সিলেটে নিজ বাসভবনে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ব্যক্তিগত সুবিধার পাশাপাশি জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় রেখে জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে। জ্বালানি অপচয় কমানো গেলে দীর্ঘমেয়াদে তা দেশের জন্য লাভজনক হবে। এতে আমদানির ওপর চাপ কমবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।
তিনি জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেলেও সরকার তাৎক্ষণিকভাবে দেশের বাজারে এর প্রভাব পড়তে দেয়নি। ক্রুড অয়েলের দাম ৫৫-৬০ ডলার থেকে বেড়ে ১১৬ ডলারে পৌঁছালেও সরকার অভ্যন্তরীণ বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রেখেছে এবং যতদিন সম্ভব তা ধরে রাখার চেষ্টা করবে।
বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে অফিস সময়সূচি পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে তিনি বলেন, সবাই সচেতন হলে বড় ধরনের কোনো সমস্যা তৈরি হবে না। সন্ধ্যা ৬টার পর বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ে, তাই এ সময় সাশ্রয়ী ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। এতে অতিরিক্ত ব্যয় এড়ানো সম্ভব হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, বিশ্বের অনেক দেশে মৌসুমভেদে সময় এক ঘণ্টা কম-বেশি করা হয়, যা ডে-লাইট সেভিংস নামে পরিচিত। বাংলাদেশে এ ব্যবস্থা না থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে কিছু সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
এলপিজির মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বিশেষ করে সৌদি আরবসহ উৎপাদনকারী দেশগুলোতে দাম বাড়ার কারণে দেশের বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। তবে সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলে জ্বালানি তেলের দাম স্থির রাখার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি প্রসঙ্গে তিনি জানান, চুক্তিটি এখনও সংসদে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অনুমোদন হলে তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। ভবিষ্যতে জাপানি বিনিয়োগ বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ চলছে, যা এলডিসি উত্তরণ পরবর্তী সময়ে রপ্তানিতে সুবিধা এনে দেবে।
বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশসহ অনেক দেশের রপ্তানি কমেছে। তবে নতুন বাণিজ্য চুক্তিগুলো অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এর আগে সকালে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে সিলেটে পৌঁছান মন্ত্রী। পরে নগরীর পীরমহল্লা জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করে স্থানীয় মুসল্লি ও বাসিন্দাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
এ সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।