ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, নিগৃহীতা কিশোরী নিজের বাড়ি থেকে যৌন নির্যাতন এড়াতে পালিয়ে এসে ওডিশার বেরহামপুরে এক চা দোকানে কাজ শুরু করেছিলেন। গত ২৯ মার্চ বেরহামপুর শহরে দুই ব্যক্তি ওই কিশোরীকে মাদক খাইয়ে গণধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ কিশোরীটিকে উদ্ধার করে।
এই ঘটনায় ২৩ এবং ১৯ বছর বয়সী দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ছাড়া, অভিযুক্তদের সহায়তা করার অভিযোগে ১৫ বছরের এক কিশোরকে জুভেনাইল হোমে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পকসো আইন ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক ধারায় মামলা করা হয়েছে। এর পাশাপাশি, ওই কিশোরীকে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য করার জন্য অন্ধ্রপ্রদেশে থাকা তার সৎ বাবার বিরুদ্ধেও যৌন নির্যাতনের একটি পৃথক মামলা দায়ের করেছে ওডিশা পুলিশ।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশটির শাসক দল বিজেপি-কে আক্রমণ করে বিজু জনতা দল (বিজেডি) অভিযোগ করেছে যে, বর্তমান সরকারের অধীনে ওডিশা রাজ্য নারী নির্যাতনে দেশের মধ্যে শীর্ষ স্থানে পৌঁছেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কিশোরীটি অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে ‘প্রশান্তি এক্সপ্রেস’-এ চড়ে গত ২৪ মার্চ বেরহামপুর রেল স্টেশনে পৌঁছায়। স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে কিছু সময় কাটানোর পর সে কাছের একটি চা দোকানে কাজ খুঁজে নেয়। সেখানে কাজ করার সময় এক স্থানীয় কিশোরের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। গত ২৯ মার্চ সেই কিশোরই তাকে তার বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করাতে নিয়ে যায়।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, কিশোরীটিকে এমন পানীয় দেওয়া হয়েছিল যাতে ঘুমের ওষুধ মেশানো ছিল। সেটি পান করার পর সে অচেতন হয়ে পড়ে। অভিযোগ, অচেতন অবস্থায় দুই প্রাপ্তবয়স্ক অভিযুক্ত তাকে ধর্ষণ করে এবং নাবালক কিশোরটি তাদের সাহায্য করে। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়।
বেরহামপুরের পুলিশ সুপার সারভানা বিবেক এম গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে,র্ ভুক্তভোগী কিশোরীকে জেলা শিশু কল্যাণ কমিটির সামনে হাজির করা হয়েছে। তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং কমিটির নির্দেশে তাকে বর্তমানে একটি চাইল্ড কেয়ার হোমে রাখা হয়েছে।
কিশোরীটি পুলিশকে জানিয়েছে, তার বাবার মৃত্যুর পর মা পুনরায় বিয়ে করেন। কিন্তু সৎ বাবা তার ওপর যৌন নির্যাতন চালাতেন, যার ফলে সে নিরুপায় হয়ে অচেনা শহরে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়।
ভুবনেশ্বরে দুই অ্যাম্বুলেন্স চালকের এক তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনার ঠিক একদিন পরই এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসায় ওডিশার আইনশৃঙ্খলা নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা শুরু হয়েছে।
বিজু জনতা দলের সাধারণ সম্পাদক সুমিত্রা জেনা ভুবনেশ্বরে এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন যে, বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর ওডিশায় মহিলারা অত্যন্ত অসুরক্ষিত হয়ে পড়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝির বিধানসভায় দেওয়া সাম্প্রতিক তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি জানান, ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ওডিশায় মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধের ৪৮,৭৯৮টি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৪,২৯২টি ছিল ধর্ষণের মামলা। জেনার দাবি অনুযায়ী, বিজেপি সরকারের অধীনে ওডিশা এখন নারী নির্যাতনে দেশে প্রথম স্থানে রয়েছে এবং মহারাষ্ট্র দ্বিতীয় স্থানে।