বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডাব্লিউটিএ) বালু নিয়ে ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে ছাত্রদল ও এলাকাবাসীর মাঝে সংঘর্ষের ঘটনার ২৬ ঘণ্টা পেরোলেও মামলা হয়নি। মামলার বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও বিআইডাব্লিউটিএ একে অপরের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছে। বালু ঘাট নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনার পর মুক্তার হোসেনকে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়কের পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। এদিকে মুক্তার হোসেনকে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়কের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক) আলহামদুলিল্লাহ লিখে পোস্ট দেওয়ায় যুবদলকর্মীকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ অভিযোগ উঠেছে।
ছাত্রদল নেতা ও তার অনুসারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ১২টি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দিয়েছে এলাকাবাসী। একই সাথে বেশ কয়েকটি দোকান ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকাল ৫টা পর্যন্ত বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডাব্লিউটিএ) পক্ষ থেকে থানায় কোনো অভিযোগ দেয়নি বলে জানিয়েছেন গফরগাঁও থানার ওসি আতিকুর রহমান।
এর আগে, বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বেলা সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার সরকারি কলেজ ঘাট বালু মহাল এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
গফরগাঁও উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম বলেন, গত বুধবার উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি মুক্তার হোসেন তার দলবল নিয়ে সরকারি কলেজ এলাকায় বালুর ঘাট দখল করতে যায়। এ সময় স্থানীয়রা বাধা দিলে মুক্তার তার দলবল নিয়ে ফিরে আসে। ওই ঘটনার জেরে গতকাল বৃহস্পতিবার মুক্তার হোসেন বিশাল মোটরসাইকেল বহর নিয়ে সরকারি কলেজ এলাকায় বালুর ঘাট দখল করতে যায়। এ সময় মুক্তার এক নৌকার মাঝিকে পিটিয়ে আহত করে ও নৌকা পুড়িয়ে দেয়। স্থানীয়রা টের পেয়ে দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের ধাওয়া করে। মুক্তার ও তার লোকজন পালিয়ে যাওয়ার সময় তাদের অন্তত ১০ থেকে ১২টি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় বেশ কয়েকটি দোকানপাট ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। তবে, এ ঘটনায় মাঝি ছাড়া কেউ আহত হয়নি।
এদিকে, ছাত্রদল নেতা ও তার অনুসারীরা বালু ঘাট দখলের ঘটনা গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নজরে আসলে ওই দিন রাত ১০টার দিকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম সাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মুক্তার হোসেনকে অব্যাহতির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।