সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৪৪ পূর্বাহ্ন

পাম্পে তেল নেই, খোলা বাজারে মিলছে ৩০০ টাকায়

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০২৬

ঠাকুরগাঁওয়ের ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন তেলের জন্য এক পাম্প থেকে অন্য পাম্পে ছুটছেন ভোক্তারা। তেলের খোঁজে ঘুরতে ঘুরতেই মোটরবাইকে থাকা অবশিষ্ট তেলও শেষ হয়ে যাচ্ছে। কোথাও সীমিত পরিমাণ তেল এলেও দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও তা পাওয়া যাচ্ছে না। দীর্ঘ চেষ্টার পর তেল না পেয়ে নিরাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন গ্রাহকরা।

ফিলিং স্টেশনে তেল না মিললেও গ্রামের হাট-বাজারগুলোতে চড়া দামে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে পেট্রোল ও অকটেন। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরবাইক চালকসহ সাধারণ মানুষ।

জানা গেছে, ঠাকুরগাঁওয়ের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে ‘অকটেন নেই’, ‘পেট্রোল নেই’ লেখা স্টিকার ঝুলছে। কোথাও কোথাও পাম্প কর্তৃপক্ষ বাঁশ, ড্রাম বা রশি টেনে চলাচল বন্ধ করে রেখেছেন।

বিশেষ করে সবজি ব্যবসায়ী, বিভিন্ন কোম্পানির মাঠকর্মী ও সংবাদকর্মীরা পেশাগত কারণে চলাচলের ক্ষেত্রে চরম বিপাকে পড়েছেন। এক-দুই লিটার তেলের জন্য এক পাম্প থেকে অন্য পাম্পে ছুটলেও কোথাও মিলছে না জ্বালানি।

মাঝে মাঝে দু-একটি পাম্পে তেল দেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে সেখানে হাজার হাজার চালক ভিড় করছেন। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেকে খালি হাতে ফিরছেন। এ নিয়ে কোথাও কোথাও বাকবিতণ্ডা ও উত্তেজনার সৃষ্টি হচ্ছে।

এদিকে গ্রামের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। ফিলিং স্টেশনে তেল না থাকলেও হাটে-বাজারে খোলা দোকানে পাওয়া যাচ্ছে পর্যাপ্ত তেল, তবে গুনতে হচ্ছে দুই থেকে তিন গুণ বেশি দাম।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, রুহিয়ার রামনাথ হাটে প্রতি লিটার পেট্রোল ২৭০ টাকা, উত্তরা বাজারে ২০০ টাকা, সেনিহারি বাজারে ৩৫০ টাকা, ঢোলারহাটে ৩১০ টাকা, ফারাবাড়ি বাজারে ২৫০ টাকা, রাণীশংকৈল উপজেলার চেকপোস্ট বাজারে ২৩০ টাকা, ধনিরহাটে ৩০০ টাকা, ভরণিয়া বাজারে ৩২০ টাকা, বাদামবাড়ি বাজারে ২৮০ টাকা, সেনগাঁও বাজারে ৩০০ টাকা, লাহিড়ী বাজারে ২৬০ টাকা, কাঁচকালী বাজারে ৩০০ টাকা, রহিমানপুর পল্লী বিদ্যুৎ বাজারে ২৮০ টাকা এবং কাউন্সিল বাজারে ২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

অথচ সরকার নির্ধারিত প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম ১১৬ টাকা এবং অকটেনের দাম ১২০ টাকা।

এর আগে শহরের একটি ফিলিং স্টেশনে তেল সংগ্রহকে কেন্দ্র করে গ্রাহকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ৫০-৬০ জনের একটি দল হানিফ ফিলিং স্টেশনে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। এতে পাম্পের দুইজন কর্মী আহত হন।

একই রাতে শহরের বিসিক এলাকায় সুরমা ফিলিং স্টেশনে অভিযান চালিয়ে তেল কম দেওয়ার অভিযোগে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে প্রশাসন। অভিযোগ ছিল, মজুত থাকা সত্ত্বেও তারা গ্রাহকদের তেল না দিয়ে গড়িমসি করছিল।

এছাড়া শহরের অন্য একটি পাম্পে বিশৃঙ্খলার ছবি তুলতে গেলে সংবাদকর্মীদের বাধা দেওয়া হয় এবং তাদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটে।

মোটরসাইকেল চালক বাবুল হোসেন বলেন, পাম্পে গেলেই বলা হচ্ছে তেল নেই, অথচ একটু দূরেই বোতলে করে বেশি দামে তেল বিক্রি হচ্ছে। পাম্পে তেল না থাকলে বাজারে কীভাবে পাওয়া যাচ্ছে? এটি একটি পরিকল্পিত সিন্ডিকেট। সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে তারা অতিরিক্ত মুনাফা লুটছে।

জানা যায়, ভোক্তাদের ভোগান্তি লাঘবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. খায়রুল ইসলাম ছদ্মবেশে বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। ফারাবাড়ি এলাকায় অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রির সময় এক বিক্রেতাকে হাতেনাতে ধরে জরিমানা করেন তিনি।

এনামুল হক ফিলিং স্টেশনের মালিক এনামুল হক বলেন, ডিপো থেকে চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ করা হচ্ছে না। সপ্তাহে মাত্র একদিন সরবরাহ পাওয়া যায়, যা গ্রাহকের ভিড়ে নিমিষেই শেষ হয়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. খাইরুল ইসলাম বলেন, যেখানেই অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, সেখানেই অভিযান চালানো হচ্ছে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। অবৈধভাবে তেল মজুত ও বেশি দামে বিক্রির বিরুদ্ধে আমাদের কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102