সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যেই শিক্ষক এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে চারটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, যা শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়ন, সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন সরকারের প্রথম ২৮ দিনের কার্যক্রম তুলে ধরেন। সেখানে শিক্ষা খাতে নেওয়া চারটি উদ্যোগ বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়।
পোস্ট অনুযায়ী, শিক্ষাখাতে সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্তগুলোর একটি হলো প্রতি বছর পুনর্ভর্তি ফি বাতিল করা। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি প্রক্রিয়ায় লটারির পরিবর্তে আধুনিক পরীক্ষা বা সাক্ষাৎকার পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের যোগ্যতার ভিত্তিতে ভর্তি নিশ্চিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে বিদেশে পড়াশোনার জন্য শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জামানতবিহীন ব্যাংক গ্যারান্টি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যা মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সহায়ক হবে।
এ ছাড়া নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার প্রসারে ৯ হাজার শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা আরও জোরদার হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিকাশেও গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠ শিশু-কিশোরদের জন্য উন্মুক্ত রাখা, ‘নতুন কুঁড়ি’ কর্মসূচি চালু এবং উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন খেলায় ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বিশ্লেষকদের মতে, শিক্ষা খাতে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে এবং শিক্ষাব্যবস্থা আরও আধুনিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়ে উঠবে।