যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ধারা ৩০১-এর অধীনে বাংলাদেশসহ ১৬টি দেশের বিরুদ্ধে বাণিজ্য তদন্ত শুরু করেছে। যদিও এই ধারা সরাসরি শুল্ক আরোপ করে না, এটি ভবিষ্যতে শুল্ক আরোপের আইনি ভিত্তি তৈরি করতে পারে। গত ১১ মার্চ, ইউএসটিআর ‘উৎপাদন খাতে অতিরিক্ত সক্ষমতা ও উৎপাদন’ সংক্রান্ত তদন্ত শুরু করে। পরের দিন জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ করতে পর্যাপ্ত পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগে ৬০টি দেশের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দফার তদন্ত শুরু হয়, যেখানে বাংলাদেশের নামও ছিল।
আইনগতভাবে, ২০ ফেব্রুয়ারি মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট লার্নিং রিসোর্সেস বনাম ট্রাম্প মামলায় প্রেসিডেন্টের জরুরি ক্ষমতা বেআইনি ঘোষণা করে। তবে এটি শুল্ক আরোপ বন্ধ করেনি; বরং আইনি ভিত্তি আরও দৃঢ় করেছে। বর্তমানে, সেকশন ১২২ (১৫০ দিনের জন্য ১৫ শতাংশ শুল্ক) ও সেকশন ৩০১/২৩২ ভবিষ্যতে শুল্ক আরোপের সম্ভাব্য আইনি ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতাসংক্রান্ত অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের পোশাক শিল্পকে লক্ষ্য করেছে। বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশের উৎপাদন বাজারের চাহিদার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ এবং এটি কোনো বিকৃতি নয়। অর্থাৎ, অভিযোগটি রাজনৈতিক প্রয়োজনের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে, অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী ভিত্তি নেই।
জোরপূর্বক শ্রমসংক্রান্ত অভিযোগ মূলত দুই দিক থেকে এসেছে। একটি, বাংলাদেশ কি আমদানির সরবরাহ শৃঙ্খল থেকে জোরপূর্বক শ্রমের পণ্য দূরে রাখতে যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে? এবং দ্বিতীয়টি, যদি তা না হয়, তাহলে স্থানীয় উৎপাদকরা অন্য দেশের তুলনায় সুবিধা পাচ্ছে কি না।
প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালে রানা প্লাজা ধসের পর বাংলাদেশকে ‘জেনারেলাইজড সিস্টেম অব প্রেফারেন্সেস’ থেকে বাদ দেওয়া হয়। যদিও কিছু শ্রম সংস্কার করা হয়েছে, তবে কার্যকর প্রয়োগ এখনো অসম্পূর্ণ।
ফেব্রুয়ারির দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতে বাংলাদেশ জোরপূর্বক শ্রম প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে। তবুও যুক্তরাষ্ট্র শ্রম অধিকারকে ব্যবহার করে বাণিজ্য চাপ তৈরি করছে, যদিও নিজেই আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার সব কনভেনশন অনুমোদন করে না। যুক্তরাষ্ট্রের চাপ বাংলাদেশের প্রতি নির্দিষ্ট নয়; এটি মূলত মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রয়োজনের ফল।
বাংলাদেশের করণীয় তিনটি প্রধান ধারা—