ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনার প্রণয় ভার্মা বলেছেন, বাংলাদেশে রাজনৈতিক সরকার গঠিত হওয়া এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির ফলে ধাপে ধাপে ভারতীয় ভিসা সেন্টারগুলো পুনরায় চালু করা হবে। একই সঙ্গে পর্যায়ক্রমে ভিসা প্রদানের সংখ্যাও বাড়ানো হবে।
রোববার (১ মার্চ) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে বৈঠককালে তিনি এ কথা জানান। বৈঠকে মন্ত্রী ভারতীয় ভিসা সেন্টার দ্রুত চালু ও ভিসা প্রদানের হার বাড়ানোর অনুরোধ করেন। জবাবে হাইকমিশনার বলেন, বর্তমানে পর্যাপ্ত পরিমাণে মেডিকেল ভিসা ইস্যু করা হচ্ছে। তবে গত দেড় বছর ধরে সামগ্রিক নিরাপত্তাজনিত কারণে ভিসা সেন্টারগুলো বন্ধ ছিল এবং ভিসা কার্যক্রম সীমিত আকারে পরিচালিত হয়েছে।
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতীয় ভিসা সেন্টারসহ সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে আশ্বস্ত করেন। হাইকমিশনার জানান, বর্তমানে ভিসা আবেদন সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক এবং সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে হ্যাকিংয়ের চেষ্টা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার অনুরোধ করলে মন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট এবং কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের মূল ভিত্তি হবে দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা, কোনো রাজনৈতিক দলের পারস্পরিক সম্পর্ক নয়। তিনি অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে সম্পর্ককে নতুনভাবে এগিয়ে নেওয়ার ওপর জোর দেন। তার ভাষায়, অভিন্ন ইতিহাস ও সংস্কৃতির বন্ধনকে শক্তিতে রূপান্তর করেই দুই দেশ পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষা করতে পারে।
আলোচনায় নিরাপত্তা সহযোগিতা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়ন, সহিংসতা ও মব সংস্কৃতি প্রতিরোধ, সীমান্তে হত্যাকাণ্ড বন্ধ, বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠক, দুই দেশের পুলিশ একাডেমির মধ্যে প্রশিক্ষণ বিনিময়, ভারতের আইটিইসি কর্মসূচিতে প্রশিক্ষণ বৃদ্ধি, বন্দি বিনিময়, বাণিজ্য সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় ইস্যু উঠে আসে।
সীমান্তে প্রাণহানির বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দ্রুত তা শূন্যে নামিয়ে আনার আহ্বান জানান। হাইকমিশনার বলেন, ভারতের প্রশিক্ষণ কর্মসূচিগুলো উচ্চমানসম্পন্ন এবং দক্ষতা উন্নয়নে কার্যকর। তিনি আইটিইসি কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি সংখ্যক প্রশিক্ষণার্থী পাঠানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ বিষয়ে বাংলাদেশ থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের অধিকহারে ভারতে প্রশিক্ষণে পাঠানো হবে বলে মন্ত্রী আশ্বাস দেন।
বৈঠকের শুরুতে মন্ত্রী ভারতীয় হাইকমিশনারকে স্বাগত জানান এবং হাইকমিশনার নবনিযুক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানানোর জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বৈঠকে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।