দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের টানাপোড়েন কাটিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ভিসা কার্যক্রম আবারও স্বাভাবিক ধারায় ফেরানোর উদ্যোগ জোরদার হয়েছে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য সব ধরনের ভিসা ক্যাটাগরি পুরোপুরি চালু করেছে। এবার ভারতও আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ধাপে ধাপে বাংলাদেশিদের জন্য পূর্ণাঙ্গ ভিসা সেবা পুনরায় চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে কূটনৈতিক ও গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সম্প্রতি ভারতের সঙ্গে আলোচনায় ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক করাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ঢাকার প্রত্যাশা, ভারতও দ্রুত একই ধরনের পদক্ষেপ নেবে। বর্তমানে ভারতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশন ও ভিসা কেন্দ্রগুলো স্বাভাবিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ জানিয়েছেন, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সাময়িক বিঘ্ন ঘটলেও বাংলাদেশি মিশনগুলোর কার্যক্রম ইতোমধ্যে পুনরায় পূর্ণমাত্রায় চালু হয়েছে। অন্যদিকে ভারতের পক্ষ থেকেও ইঙ্গিত মিলেছে, নতুন কূটনৈতিক নেতৃত্ব দায়িত্ব নেওয়ার পর ভিসা প্রক্রিয়া আরও বিস্তৃত হতে পারে।
২০২৪ সালে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দুই দেশের সম্পর্কে যে শীতলতা তৈরি হয়েছিল, নতুন সরকারের অধীনে তা কাটিয়ে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরির চেষ্টা চলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ভিসা ব্যবস্থা পুরোপুরি সচল হলে বাণিজ্য, জ্বালানি, চিকিৎসা ও পর্যটনসহ বিভিন্ন খাতে যোগাযোগ বাড়বে।
ভারতের সরকারি সূত্র অনুযায়ী, নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা কার্যক্রম আগের তুলনায় সীমিত হলেও চিকিৎসা, পারিবারিক ও জরুরি প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে সেবা পূর্বের তুলনায় অনেক কম পরিসরে চললেও ধাপে ধাপে তা বাড়ানো হচ্ছে।
বাংলাদেশ হাইকমিশনের তথ্য বলছে, চলতি বছরে কার্যক্রম পুনরায় শুরু হওয়ার পর গত দুই মাসে ১৩ হাজারের বেশি ভারতীয় নাগরিক বাংলাদেশি ভিসা পেয়েছেন। ব্যবসা, চিকিৎসা, পর্যটন ও পারিবারিক সফরই ছিল প্রধান উদ্দেশ্য।
ভারত দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশিদের অন্যতম প্রধান বিদেশ সফরের গন্তব্য। সরকারি হিসাবে, ২০২৩ সালে ২১ লাখের বেশি বাংলাদেশি ভারত ভ্রমণ করলেও পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও বিধিনিষেধের কারণে সেই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পূর্ণাঙ্গ ভিসা ব্যবস্থা ফিরলে আবারও দুই দেশের জনগণের যাতায়াত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক গতি পাবে।