পিরোজপুরে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনি সেন্টার পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশাররফ হোসেনের ছেলে মো. কামরুল ইসলামের (৪২) ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় পিরোজপুর সদর উপজেলার শারিকতলা ইউনিয়নের নলবুনিয়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে। কামরুল ইসলাম উত্তর রানীপুর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত মোশাররফ হোসেনের ছেলে এবং জামায়াতের নির্বাচন কমিটির স্থানীয় ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সেন্টার সভাপতি।
এ ঘটনায় শনিবার রাতে আহত কামরুল ইসলামের ভাই নাঈম হোসেন পিরোজপুর সদর থানায় বাদী হয়ে ৬ জনের নামে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্তরা হলেন: শারিকতলা ইউনিয়নের কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও উত্তর রানীপুর গ্রামের মৃত আব্দুল লতিফ বেপারীর ছেলে মো. শাহিন বেপারী (৪৮) ও রিপন বেপারী (৫৫), একই গ্রামের মৃত ইসমাইল বেপারীর ছেলে মো. মনির বেপারী (৬০), শারিকতলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও একই গ্রামের বাসিন্দা মো. হেমায়েত বেপারী (৬০), সুলতান ফকিরের ছেলে মো. শওকত ফকির (৩০), মৃত গহের বেপারীর ছেলে মো. রিয়াজ বেপারী (৫২)।
অভিযোগপত্র ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হামলাকারীরা বেশ কিছুদিন ধরে কামরুলকে হুমকি দিয়ে আসছিলেন। শনিবার বিকেলে কামরুল নলবুনিয়া বাজারে গেলে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হেমায়েত বেপারীর নির্দেশে শাহিন বেপারী ও রিপন বেপারীসহ অভিযুক্ত সব ব্যক্তি কাঠের লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। শাহিন ও রিপন তাদের বাবার পুরোনো রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত।
পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদ হাসান বলেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে জামায়াতকে ভোট দেওয়ার অভিযোগে আজিবর রহমান নামে আরও এক সমর্থককে পিটিয়ে তার হাত ভেঙে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পার্শ্ববর্তী মোড়েলগঞ্জ উপজেলার হোগলাপাশা ইউনিয়নের বৌলপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আজিবর রহমান (৩৬) একই গ্রামের বাসিন্দা এবং পিরোজপুর শহরে রাজমিস্ত্রীর কাজ করতেন। তিনি বর্তমানে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় পিরোজপুর-১ আসনের নবাগত সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী ও পিরোজপুর জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ তাফাজ্জাল হোসাইন ফরিদসহ নেতৃবৃন্দ হাসপাতালে গিয়ে রোগীদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন।
এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মাসুদ সাঈদী দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, আমরা ভেবেছিলাম, এই নির্বাচনের পর বাংলাদেশ সত্যিকারের গণতান্ত্রিক পথে হাঁটবে। কিন্তু আমরা হতাশার সঙ্গে লক্ষ করছি, পিরোজপুর-১, ২ ও ৩ আসনসহ সারা দেশে সন্ত্রাসী কায়দায় বিএনপির কিছু নেতাকর্মী জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দের ওপর যেভাবে হামলা ও হুমকি দিচ্ছে, তা গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ। ৫ আগস্টের যে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ছিল, তার চেতনা ছিল স্বৈরতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতা হরণের চেষ্টা রোধ করা। বিএনপির এই আচরণ জনগণ পছন্দ করছে না। আমরা আশা করি, বিএনপির নেতৃবৃন্দ দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবেন এবং তাদের সন্ত্রাসী কর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করবেন। তারা যদি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হন, তাহলে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়, তা জনগণ জানে।