জামায়াতে ইসলামী নেতা শিশির মনির ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতা আসিফ মাহমুদ সম্প্রতি ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এ ঘোষণার পর রাজনীতিতে নতুন আলোচনার স্রোত শুরু হয়েছে। অনেকেই জানতে চাচ্ছেন, ছায়া মন্ত্রিসভা কী এবং বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এর কার্যকারিতা কী।
বিশ্ব রাজনীতিতে ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ ওয়েস্টমিনস্টার ধারার সংসদীয় ব্যবস্থার পরিচিত একটি ধারণা। বিভিন্ন দেশে বিরোধী দলগুলো নিজেদের ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করে। এটি মূলত সরকারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, সমালোচনা এবং বিকল্প নীতি প্রস্তাব করার জন্য তৈরি একটি কাঠামো।
সাধারণত সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের জন্য বিরোধী দল একজন ‘ছায়া মন্ত্রী’ মনোনয়ন করে। এই মন্ত্রীরা সরকারের নীতি ও বাজেট বিশ্লেষণ, সমালোচনা এবং প্রয়োজনে বিকল্প নীতি বা পরিকল্পনা প্রস্তাব করার দায়িত্বে থাকে। ছায়া মন্ত্রিসভা শুধু সরকারের সমালোচনা নয়, এটি বিরোধী দলের জন্য রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ এবং নির্বাচনের প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবেও কাজ করে।
যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে ছায়া মন্ত্রিসভা নিয়মিত সরকারের নীতি পর্যবেক্ষণ করে এবং সংসদে প্রশ্নের মাধ্যমে জবাবদিহি নিশ্চিত করে। অস্ট্রেলিয়াতেও বিরোধী দলের ছায়া মন্ত্রিসভা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো ছায়া মন্ত্রিসভা গঠিত হয়নি। প্রচলিত কাঠামোয় এটি কোনো সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার আওতায় পড়ে না। তবে সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন সময় ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের ওপর গুরুত্ব দেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ভবিষ্যতে এই কাঠামো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে, বিশেষ করে যখন ক্ষমতায় থাকা দলের নীতি পর্যবেক্ষণ জটিল হয়ে ওঠে।