রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:২৪ অপরাহ্ন

ভালোবাসা দিবসে প্রেমিকাকে হত্যার পর ‘আত্মহত্যা’ করলেন প্রেমিক

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

ভালোবাসা দিবসে প্রেমিকাকে গুলি করে হত্যার পর, আত্মহত্যা করেন প্রেমিক। ভারতের উত্তর প্রদেশের নয়ডায় গাড়ির ভেতরে এ ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যার ঘটনা বলে মনে করা হলেও, দুই পরিবারের দাবি — দু’জনকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

পুলিশ গাড়ি থেকে দু’জনের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল ও কার্তুজও জব্দ করা হয়। প্রাথমিকভাবে প্রেমিকের হাতে পিস্তল ও একটি হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার সূত্রে আত্মহত্যার ইঙ্গিত মিললেও পুলিশ সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, ভ্যালেন্টাইনস ডে’তে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছে নয়ডার সেক্টর ৩৯ থানা এলাকায়। এলাকাবাসী গুলির শব্দ শুনে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে একটি গাড়ির মধ্যে এক পুরুষ ও এক নারীকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পায়। গাড়িটি ভেতর থেকে লক করা ছিল এবং পরে গাড়িটি জব্দ করে এলাকা ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য সিলগালা করা হয়।

এদিকে নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তারা হলেন নয়ডার সেক্টর ৫৮–এর বাসিন্দা ২৬ বছর বয়সী রেখা এবং দিল্লির ত্রিলোকপুরীর বাসিন্দা ৩২ বছর বয়সী সুমিত। পুলিশ জানিয়েছে, আগের দিন থেকে তারা দু’জনই নিখোঁজ ছিলেন এবং এ নিয়ে থানায় জিডি করা হয়েছিল। তাদের প্রায় ১৫ বছরের সম্পর্ক ছিল এবং বিষয়টি দুই পরিবারই জানত।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গাড়িটি ভেতর থেকে লক করা ছিল এবং সুমিতের হাতে একটি পিস্তল পাওয়া যায়। ফরেনসিক দল ঘটনাস্থল পরীক্ষা করে আলামত সংগ্রহ করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সুমিত হোয়াটসঅ্যাপে একটি বার্তা লিখে রেখে গেছেন। ওই বার্তায় তিনি তাদের ১৫ বছরের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে আত্মহত্যার কারণ ব্যাখ্যা করেন। বার্তায় লেখা ছিল: ‘আমি সুমিত, আত্মহত্যা করতে যাচ্ছি। রেখা এ জন্য দায়ী। সে ১৫ বছর ধরে আমার সঙ্গে সম্পর্কে ছিল এবং আমাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এখন সে অন্য কাউকে বিয়ে করতে যাচ্ছে। তাই আমি আত্মহত্যা করছি, কারণ রেখা আমার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।’

তবে সুমিতের পরিবার পুলিশের প্রাথমিক ধারণা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তাদের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়— বরং দু’জনকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। পরিবার অভিযোগ করেছে, জাতিগত কারণে মেয়ের পরিবার সম্পর্কটি নিয়ে কটূক্তি করত। এমনকি তাদের কাছে হুমকিমূলক ফোনও এসেছে, যার মধ্যে বিদেশি নম্বর থেকেও কল ছিল।

এক আত্মীয় বলেন, গাড়িটি রেখার গ্রাম সালারপুর থেকে কয়েকশ’ মিটার দূরে পাওয়া গেছে, আর এটিই তাদের কাছে সন্দেহজনক মনে হয়েছে। তাদের দাবি, জাতিগত কারণে এ ঘটনা ঘটতে পারে এবং তাদের পক্ষ থেকে সম্পর্ক নিয়ে কখনোই কোনও চাপ ছিল না।

সুমিতের এক চাচাতো ভাই বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, দু’জনকেই হত্যা করা হয়েছে এবং তারা জাতিগত বৈষম্যের শিকার। তারা এক দশকের বেশি সময় ধরে সম্পর্কে ছিল এবং দুই পরিবারই বিষয়টি জানত। সুমিত আমার ছোট ভাই। মেয়েটি আমাদের পারিবারিক অনুষ্ঠানেও অংশ নিত। আমাদের পক্ষ থেকে কখনও কোনও চাপ ছিল না।’

পুলিশ জানিয়েছে, চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে পরিবারের অভিযোগসহ সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102