শরিফ ওসমান হাদির সংগ্রামী পথচলায় যিনি ছিলেন নীরব ছায়াসঙ্গী, আদর্শে ও সাহসে যিনি নিজেকে গড়ে তুলেছিলেন হাদির প্রতিবিম্ব হিসেবে—তিনি আব্দুল্লাহ আল জাবের। ফ্যাসিবাদবিরোধী ইনসাফের লড়াইয়ে হাদির সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সহযোদ্ধা হিসেবে পরিচিত এই তেজস্বী তরুণ শুরু থেকেই যুক্ত ছিলেন ইনকিলাব মঞ্চের সঙ্গে। দায়িত্ব পালন করেছেন সদস্য সচিব হিসেবে এবং আন্দোলনের প্রতিটি ধাপে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
রাজপথের প্রতিটি কর্মসূচি, সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং ওসমান হাদির রাজনৈতিক প্রচার-প্রচারণায় আব্দুল্লাহ আল জাবের ছিলেন সদা সক্রিয়। শহীদ ওসমান হাদির জানাজায় শোকস্তব্ধ জনতার সামনে তার অগ্নিঝরা বক্তব্য অনেকের চোখেই তুলে ধরেছে এক সম্ভাব্য উত্তরসূরির অবয়ব। হাদির কণ্ঠে যে প্রতিবাদের দীপ্তি ছিল, জাবেরের কণ্ঠেও তার স্পষ্ট প্রতিফলন লক্ষ করা যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাকে ঘিরে আলোচনার ঝড় উঠলেও তার জীবন ও সংগ্রামের পথচলা সম্পর্কে অনেকেই এখনো পুরোটা জানেন না।
আব্দুল্লাহ আল জাবেরের শৈশব ও শিক্ষাজীবনের সূচনা বরিশাল বিভাগের ঝালকাঠি জেলায়। তিনি নেসারাবাদ কামিল মাদ্রাসায় ২০০৭ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত পড়াশোনা করেন—যে প্রতিষ্ঠানটি ওসমান হাদির শৈশবের বিদ্যাপীঠ হিসেবেও পরিচিত। পরবর্তীতে উচ্চশিক্ষার জন্য ঢাকায় এসে দারুন্নাজাত সিদ্দিকিয়া কামিল মাদ্রাসায় অধ্যয়ন করেন এবং সেখান থেকে আলিম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর তিনি মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন।
ইনকিলাব মঞ্চ ও কালচারাল সেন্টারের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আগেই আব্দুল্লাহ আল জাবের সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। ২০২০ সাল থেকে তিনি ‘হ্যাপি ফাউন্ডেশন বিডি’ নামে একটি অরাজনৈতিক সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাজ করে আসছেন। শিশু শিক্ষা, রক্তদান, পরিচ্ছন্ন নগর গঠন ও বৃক্ষরোপণসহ নানামুখী সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনাকারী এই প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে তিনি নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। এখান থেকে অর্জিত বাস্তব সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার প্রতিফলন দেখা যায় ইনকিলাব মঞ্চ পরিচালনায়ও।
ব্যক্তিগত জীবন ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে শৃঙ্খলা, পরিশ্রম ও নিষ্ঠার কারণে সহকর্মীদের মাঝে তার গ্রহণযোগ্যতা দৃঢ়। ওসমান হাদির অবর্তমানে তিনি এখন ইনকিলাব মঞ্চের নেতৃত্ব দিচ্ছেন শক্ত হাতে।
হাদির জানাজার মঞ্চে প্রদর্শিত বিপ্লবী মানসিকতা যদি তিনি ধারাবাহিকভাবে ধরে রাখতে পারেন, তবে ইনকিলাব মঞ্চ আরও বহু দূর এগিয়ে যাবে। সেই পথ ধরেই একদিন বাস্তব রূপ পেতে পারে হাদির স্বপ্নের ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ—যেখানে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে ন্যায় ও মানবিকতার রাজনীতি।