নীলফামারীতে বাংলাদেশ-চায়না ১ হাজার শয্যার হাসপাতাল তৈরিসহ ২৫টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এগুলো বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৪৫ হাজার ১৯১ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিলের ১০ হাজার ৮৮১ কোটি ৪০ লাখ, বৈদেশিক ঋণের ৩২ হাজার ৯৮ কোটি এবং সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ২ হাজার ২৯১ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বৈঠক শেষে ব্রিফিং করেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ।
একনেকে অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হলো: হেলথ অ্যান্ড নিউট্রিশন সার্ভিস ইমপ্রুভমেন্ট অ্যান্ড সিস্টেম স্ট্রেংদেনিং প্রজেক্ট, আড়িয়ার খাঁ বিল এলাকার জীবনমান উন্নয়ন, চট্টগ্রামসহ পারকিতে পর্যটন কেন্দ্রের সুবিধা বৃদ্ধি এবং কুমিল্লা জেলার গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প। এ ছাড়া শরিয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলায় পদ্মা নদীর ভাঙন রোধ করা, তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙন থেকে বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা রক্ষা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় পদ্মা নদীর তীর সংরক্ষণ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় মহানন্দা নদী ড্রেজিং ও রাবারড্যাম নির্মাণ, পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জেলার নদীগুলোর টেকসই ব্যবস্থাপনা, স্মলহোল্ডার এগ্রিকারচারাল কস্টিটিটিভনেস প্রজেক্ট এবং আশুগঞ্জ-পলাশ সবুজ প্রকল্প।
আরও আছে: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সংশোধনী, বিদ্যালয়বহির্ভূত শিশুদের বিকল্প শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি, সিলেট টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট স্থাপন, সিলেটে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপন, দেশের ৬৪ জেলায় শিক্ষিত যুবকদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দোহাজারী হয়ে রামু থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেললাইন তৈরি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয় নির্মাণ এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশের ফাঁড়ি, ক্যাম্প, নৌপুলিশ কেন্দ্রের উন্নয়ন প্রকল্প। এ ছাড়া স্যানিটেশনে নারী উদ্যোক্তা, চট্টগ্রাম হযরত শাহ আমানত বিমানবন্দরের রানওয়ের উন্নয়ন, চট্টগ্রামের লালখান বাজার থেকে শাহ আমানত বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ, মুন্সিগঞ্জের সড়ক বিভাগের চারটি সড়কের উন্রয়ন এবং রাঙ্গামাটি-মহালছড়ি-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্প।
পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা চিঠি দিচ্ছি যাতে আগামী জুন বা ডিসেম্বর মাসে যেসব প্রকল্প শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে সেগুলো আবশ্যিকভাবে শেষ করতে হবে। না হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বরাদ্দ বন্ধ হয়ে যাবে। এখন থেকে চলমান প্রকল্পগুলো প্রতি তিন মাস পর পর মূল্যায়ন করা হবে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে স্থানীয় লোকদের যুক্ত করা হবে।’
তিনি বলেন, নীলফামারিতে তৈরি হচ্ছে চীনের অনুদানে অনেক বড় একটি হাসপাতাল। জেলাটি অবহেলিত হওয়ায় নীলফামারিকে নির্ধারণ করা হয়েছে। সেখানে হাসপাতালটি হলে আশপাশের দেশ থেকেও মানুষ চিকিৎসা নিতে আসবে।
রূপপুর বিদ্যুৎ প্রকল্পে ২৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় বৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ডলারের হিসেবে খুব বেশি ব্যয় বড়েনি। কিন্তু টাকার অঙ্কে দেখলে অনেক বেশি বৃদ্ধি মনে হয়।
পরিকল্পনা উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ক্লিন এয়ার প্রকল্প উপস্থাপন করা হলেও সেটি অনুমোদন দেওয়া হয়নি। কারণ এ প্রকল্পের মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ মাপা হবে। এজন্য আমরা ১ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে প্রকল্প নিতে চাই না। দূষণ মাপার চেয়ে দূষণ কমানোটাই জরুরি। বৈদেশিক ঋণে এমন প্রকল্প নেওয়াটা যৌক্তিক মনে হয়নি। বিশ্বব্যাংক এডিবি আমরা বললেই সুন্দর করে প্রকল্প তৈরি করে দেয়। বৈদেশিক ঋণ নিয়ে ঋণের ফাঁদে পড়তে চাই না। এখন থেকে আমরা সামাজিক খাতে বৈদেশিক ঋণ কম নেওয়া হবে। বরং যেসব প্রকল্প নিলে বিনিয়োগ বেশি হবে সেরকম প্রকল্পে ঋণ নেওয়া হবে।’