মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ঘিরে ত্রিমুখী উত্তেজনার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিশ্ববাজারে। সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের দাম দ্রুত বাড়ছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘাতের জেরে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনায় হামলার ঘটনাও বাজারকে অস্থির করে তুলেছে। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর অপরিশোধিত তেল উত্তোলন কমিয়ে দিয়েছে ইরাক। মজুত সংকট ও রপ্তানি রুট বন্ধ থাকায়, দিনে প্রায় ১ দশমিক ৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল উৎপাদন কমেছে; যা দেশটির মোট উৎপাদনের অর্ধেক। ইরানে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র হামলার জেরে, ইউরোপের বাজারে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম বেড়েছে ১০০ শতাংশের বেশি। হামলা শুরুর আগে, যে গ্যাসের দাম ছিল ৩১ ইউরো, একলাফে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৫ ইউরোতে
যুদ্ধের আঁচ লেগেছে পুঁজিবাজারেও। বুধবার (৪ মার্চ) অস্বাভাবিক হারে কমেছে দক্ষিণ কোরিয়ার বেঞ্চমার্কের শেয়ারের সূচক; যা ২০০৮ সালের পর একদিনে সবচেয়ে বড় দরপতন। টোকিওতে জাপানের নিক্কেই, সাংহাইতে চীনের সিএসআই এবং মুম্বাইয়ে ভারতের নিফটি শেয়ারের সূচকও নিম্নমুখী।
শনিবার সংঘাত শুরুর পর, প্রথমবারের মতো খুলেছে মধ্যপ্রাচ্যের দুবাই ও আবুধাবি স্টক এক্সচেঞ্জ। যেখানে দুবাই সূচক ৪ দশমিক ৭ ও আবুধাবির সূচক ৩ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে।
এদিকে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ বিনিয়োগের আশায় স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন। টানা চার দিনের ঊর্ধ্বগতির পর আউন্সপ্রতি স্বর্ণের দাম প্রায় ৯৫ ডলার কমেছে। অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলছেন, সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে এর প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের সংকট তৈরি করতে পারে।