শীতের জনপ্রিয় সবজি ফুলকপি, বাঁধাকপি ও ব্রকলি পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ হলেও এগুলো সবার জন্য সমানভাবে উপকারী নয়। নির্দিষ্ট কিছু শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন—এমন মানুষের ক্ষেত্রে এসব সবজি খেলে উল্টো অস্বস্তি বা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
যাদের হজমের সমস্যা রয়েছে- যেমন গ্যাস, অ্যাসিডিটি, বুক জ্বালাপোড়া বা বদহজম— তাদের জন্য এসব সবজি সতর্কতার সঙ্গে খাওয়া প্রয়োজন। কারণ ফুলকপি ও বাঁধাকপিতে আঁশ বেশি থাকায় হজম হতে সময় লাগে। বিশেষ করে কাঁচা সালাদ, বেশি তেলে ভাজা বা ডুবো তেলে তৈরি পাকোড়া খেলে সমস্যা আরও বাড়তে পারে।
ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেশি থাকলে কিডনিতে পাথর বা দীর্ঘদিনের কিডনি রোগ থাকলে এসব সবজি সীমিত পরিমাণে খাওয়া বা প্রয়োজনে এড়িয়ে চলাই ভালো। চিকিৎসকেরা এ ধরনের সমস্যায় ভুগছেন— এমন রোগীদের ক্ষেত্রে সাধারণত সাবধানতা অবলম্বনের পরামর্শ দেন।
থাইরয়েডজনিত সমস্যা বা আয়োডিনের ঘাটতি থাকলে ফুলকপি, বাঁধাকপি ও ব্রকলি পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে ভালোভাবে সেদ্ধ করে অল্প পরিমাণে খেলে ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসে।
সবজি খাওয়ার সময় ছোট টুকরা করে ভালোভাবে সেদ্ধ করে রান্না করা সবচেয়ে নিরাপদ। অল্প তেলে ভাজি, মসলা পরিমিত রাখা এবং ভাত বা রুটির সঙ্গে খাওয়াই ভালো পদ্ধতি। পোলাও বা ফ্রায়েড রাইসের মতো খাবারে তেল কম ব্যবহার করা উচিত। শীতকালে স্যুপ হিসেবে খেলে হজমেও সুবিধা হয়।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ফুলকপি, বাঁধাকপি ও ব্রকলি পুষ্টিকর হলেও যাদের নির্দিষ্ট কিছু শারীরিক সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এই সবজি খাওয়ার আগে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।