যত খুশি তত খাও বা বুফে অফার দেখলেই জিভে জল আসে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুস্কর। কম খরচে কয়েক ডজন পদের সমাহার সাধারণ গ্রাহকের কাছে সবসময়ই আকর্ষণীয়। কিন্তু দিনশেষে লাভটা কার হয়? আপনি কি আসলেই আপনার দেওয়া টাকার চেয়ে বেশি মূল্যের খাবার খেতে পারছেন, নাকি রেস্তোরাঁ মালিক আপনাকে কৌশলে ঠকাচ্ছে?
একজন সাধারণ গ্রাহকের জন্য বুফে তখনই লাভজনক হয় যখন তিনি কৌশলী হন। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, আমরা ক্ষুধার তাড়নায় এমন কিছু ভুল করি যাতে রেস্তোরাঁ মালিকরাই লাভবান হয়।
যারা সব ধরনের খাবার একটু একটু করে চেখে দেখতে চান, তাদের জন্য এটি সেরা অপশন। আলাদাভাবে এত পদের অর্ডার দিলে খরচ বুফের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি হতো।
যাদের হজম শক্তি প্রবল এবং যারা মূলত দামী আইটেম (যেমন: মাটন রেজালা, প্রন বা বিশেষ ডেজার্ট) বেশি খান, তারা সাধারণত নিজের টাকা উসুল করতে পারেন। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ বুফেতে গিয়ে স্বাভাবিকের চেয়ে ২০-৩০% বেশি খাবার খেয়ে ফেলেন, যা পরবর্তীতে স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
রেস্তোরাঁ মালিকরা কখনোই লোকসানে ব্যবসা করে না। তাদের কিছু গোপন কৌশল থাকে। বুফে টেবিলের শুরুতে সাধারণত সস্তা এবং পেট ভরানোর খাবার (যেমন—ভর্তা, ডাল, ভাত, নান বা পাস্তা) রাখা হয়। দামী খাবারগুলো রাখা হয় সবার শেষে
অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় বুফের প্লেট সাধারণের তুলনায় কিছুটা ছোট হয়, যাতে আপনি বারবার উঠতে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে কম খাবার নেন। আবার পানীয়র গ্লাস হয় অনেক বড়, যাতে তরল খেয়েই পেট ভরে যায়। এছাড়া, মাছ বা মাংস কাটার সময় ছোট ছোট পিস করা হয়, যাতে চামচে তুললে কম পরিমাণে আসে।
বুফেকে কেন্দ্র করে একসাথে প্রচুর পরিমাণে কাঁচামাল কেনে রেস্তোরাঁগুলো, ফলে তাদের প্রতি প্লেট খাবারের খরচ অনেক কম থাকে।
বুফেতে জিততে হলে যা করবেন
বুফেতে জিততে হলে কিছু কৌশল অবলম্বন করতে পারেন। আগে দামী এবং প্রোটিন সমৃদ্ধ আইটেম বেছে নিন।ছোট ছোট পিস নিয়ে স্বাদ পরখ করুন। প্রচুর পানি পান করা থেকে বিরত থাকুন।
বিশ্লেষকদের মতে, বুফে খাওয়াটা মূলত একটি অভিজ্ঞতা । আপনি যদি টাকার অংকে লাভ-ক্ষতি হিসেব করতে যান, তবে খুব কম মানুষই রেস্তোরাঁ মালিককে হারাতে পারেন। কিন্তু পরিবারের সাথে আনন্দ আর অনেক পদের স্বাদের কথা ভাবলে এটি অবশ্যই একটি দারুণ অপশন।