হাতুড়ি-পেরেকের টুং টাং শব্দ, শ্রমিকদের ব্যস্ত ছোটাছুটি আর লোহার ফ্রেমে ঝালাইয়ের দৃশ্যে মুখর রাজধানীর পূর্বাচল। নতুন বছরের প্রথম দিন ১ জানুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা (ডিআইটিএফ)-২০২৬ উপলক্ষে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন আয়োজকরা।
সরেজমিন দেখা গেছে, পূর্বাচলের বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার (বিবিসিএফইসি) প্রাঙ্গণে দিন-রাত পরিশ্রম করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবকাঠামো নির্মাণের কাজ এগিয়ে নিচ্ছেন শ্রমিকরা। কাঠামো নির্মাণ শেষ হলে স্টল ও প্যাভিলিয়নগুলোতে রং, আলোকসজ্জা ও নান্দনিক সাজসজ্জার কাজ শুরু হবে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সূত্রে জানা গেছে, এবারের মেলায় দেশি-বিদেশি মিলিয়ে ৩৫০টিরও বেশি স্টল ও প্যাভিলিয়ন অংশ নেবে। ভারত, পাকিস্তান, তুরস্ক, ইরান, সিঙ্গাপুর ও আফগানিস্তানসহ একাধিক দেশের প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে।
মেলার বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছে ‘বাংলাদেশ স্কয়ার’, যেখানে দর্শনার্থীরা দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও উন্নয়ন অগ্রযাত্রার নানা দিক সম্পর্কে জানতে পারবেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) যৌথভাবে মেলার আয়োজন করছে।
ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক আয়োজন, ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ৩০তম পর্ব আগামী ১ থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত মাসব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে। আমরা আশা করছি, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস মেলার উদ্বোধন ঘোষণা করবেন।
তিনি আরও জানান, এ বছর প্যাভিলিয়ন, স্টল ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে ৩৫০-এরও বেশি প্রতিষ্ঠান মেলায় অংশ নিচ্ছে। দেশীয় রপ্তানিকারকদের পাশাপাশি বিদেশি অংশগ্রহণ থাকায় এটি একটি পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার রূপ পাবে।
নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নিরাপত্তা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। বাণিজ্য সচিবের নেতৃত্বে একটি স্টিয়ারিং কমিটি ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করেছে। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
নকল ও নিম্নমানের পণ্য রোধে কড়া নজরদারির কথাও জানান ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, মেলায় যেন কেবল মানসম্মত পণ্যই বিক্রি হয়, সে জন্য কঠোর তদারকি থাকবে।
দর্শনার্থীদের যাতায়াত সহজ করতে ঢাকা ছাড়াও গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদী থেকে বিশেষ বিআরটিসি বাস সার্ভিস চালু থাকবে। পাশাপাশি রাইড শেয়ারিং সেবাও ব্যবহার করা যাবে।
দর্শনার্থীদের জন্য থাকছে ই-টিকিটিং সুবিধা, টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ টাকা। শিশুদের বিনোদনের জন্য থাকছে দুটি শিশু পার্কসহ নানা আয়োজন।
উল্লেখ্য, নাম পরিবর্তনের আগের সিদ্ধান্ত বাতিল হওয়ায় মেলাটি আগের নামেই, ‘ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা’ হিসেবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ২০২২ সাল থেকে নিয়মিতভাবে এই মেলা পূর্বাচলের এক্সিবিশন সেন্টারে আয়োজন করা হচ্ছে।