সরেজমিনে জানা যায়, ২০২৩ সালের শেষের দিকে ময়মনসিংহ পূর্বধলা থানা এরিয়ার মেঘ শিমুল গ্রামের সুভাষ রবি দাসের মেয়ে জনী রানী (২৩) এর বিবাহ হয়ে সুন্দর ভাবে সংসার করে আসছে। এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, কৃষ্ণ রবি দাস ( ২৭) তার স্ত্রী কে খুব ভালোবাসাতেন এবং শ্বশুর- শ্বাশুড়িও নিজের মেয়ে মত করে বৌকে দেখতেন। তাদের সংসারে ৬ই আগষ্ট ২০২৪ সালে সিজারে একটি পুত্র সন্তান হয় কিন্তু কিছু দিন পর মারা যায়। সিজারের পর হতে কৃষ্ণ রবি দাসের স্ত্রী জনী রানী প্রায় সব সময় অসুস্থ থাকতেন। কৃষ্ণ রবি দাস নিজ স্ত্রীর চিকিৎসা করাতে একটি গরু বিক্রি করে তার স্ত্রী চিকিৎসা করেছেন। তাতেও কাজ না হওয়াতে হরিয়াগাই সমিতি হতে কিছু দিন আগে বিশ হাজার টাকা ঋন তুলে নিজ স্ত্রীর চিকিৎসা করান। এমত অবস্থায় তাদের ঘরে মানে কৃষ্ণ রবি দাসের স্ত্রীর তিন মাসের বাঁচ্চা পেঠে আসে। তারপরও তাদের সংসারে কোন ধরনের ঝগড়া ফ্যাসাত করতে কখনও স্থানীয় আশের পাশের মানুষ দেখে নি। সরেজমিনে এমনটাই জানা যায়।
গত ৩১ মে (শনিবার ) বেলা ৫টার দিকে এমন ঘটনা ঘটে বলে বাড়ির লোকজন জানান।
কৃষ্ণ রবি দাস আলোকিত স্বপ্নের বাংলাদেশের সিনির রিপোর্টকে জানান, আমার স্ত্রীর সাথে সারাদিন ভালোই চলছিলো, বৃষ্টির দিন তাই দুজনে এক সাথেই ছিলাম। হাঠের দিন হওয়ায় তাই আমি চুলকাটার কাজ করতে প্রতিদিনের মত বাজারে চলে যাই। হঠাৎ আমার বাড়ির লোক খবর জানান আমার স্ত্রী জনী রানী দাস উড়না পেচিয়ে গলায় ফাঁস টাঙ্গীয়েছে আমার বসত ঘরে। লোক মুখে শুনে বাড়ি তারাতারি বাড়ি এসে এমনটা দেখি। কৃষ্ণ রবি দাস আরও জানান ”কেন ফাঁস দিয়েছে, সে এক আল্লাহ আর, সে ছাড়া আমি বা আমরা কিছু জানি না। আমার সাথে তার কোন ঝগড়া নাই, কোন রাগ গুসা নাই। আমি জানি না সে কেন এমনটা করলো।
কৃষ্ণ রবি দাসের পিতা শিতা রাম রবি দাস ( ৮০)। শিতা রাম রবি দাসের দুই ছেলে দুই মেয়ে। বড় ছেলে কৃষ্ণ। ছোট ছেলের নাম রাধা রবি দাস (২৫)। পেশায় সেলুনের কাজ করেন। তারা জাতে শিল। কৃষ্ণের বাবা পেশায় মুচি। বৃদ্ধ বয়স তবুও সংসার চালাতে কাজ করতে হয় প্রতিদিন সূর্য উঠার সাথে সাথে। গ্রাম- কুশিয়াধারা, পো- চংনাপাড়া, তারাকান্দা, ময়মনসিংহ। কৃষ্ণ রবি দাসের আনুমানিক বিয়ের বয়স ৩ বছরের কম বলে জানান কৃষ্ণ রবি দাসসহ এলাকাবাসী।
এলাকার মানুষ পুলিকে থানা জানালে সন্ধ্যার পর থানার ওসি মুহাম্মদ টিপু সুলতানসহ বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য এসে আত্মহত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করে করেন।
ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করেন। তারপর ময়না তদন্তের জন্য মরদের ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে এলাকা বাসী লাশটি রাখার চেষ্টা করলেও জনাব টিপু সুলতান সাহেবের দক্ষতা ও বিচক্ষণতার কারণে রাখতে পাড়েন নি। এলাকাবাসী সকলেই ঐ পরিবারের পক্ষে সমর্থন যুগিয়েছিলেন।