বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দেশের নির্বাচনি প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং তা নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কাছে নালিশ করেছে। সোমবার (২৫ জানুয়ারি) দলের প্রতিনিধিদল সিইসির সঙ্গে বৈঠক করে তাদের অভিযোগ ও প্রস্তাব তুলে ধরেছে।
দলের প্রতিনিধি দলে ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সাবেক সচিব ড. খ. ম. কবিরুল ইসলামসহ মোট চার জন। তারা দেশে নির্বাচনি নিরাপত্তা, নারী কর্মীর নিরাপত্তা এবং ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরাসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
বৈঠকের পর জুবায়ের জানান, দেশের বিভিন্ন নির্বাচনি এলাকায় বিশেষ করে ঢাকা-১৫ আসনে প্রচারণা চালানো নারী কর্মীদের ওপর হামলা এবং হেনস্তার ঘটনা ঘটছে। তাদের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং কখনো কখনো নেকাব খুলতে বাধ্য করা হচ্ছে। তিনি বলেন, নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ অবশ্যই ইতিবাচক, তবে এ ধরনের আচরণ অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরাসংক্রান্ত বিষয়ে জামায়াতের অভিযোগ, ইসি যে নির্দেশনা দিয়েছে তা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। যেসব কেন্দ্রে ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে, তা সংখ্যার দিক থেকে কম এবং প্রধানত কেন্দ্রের বাইরে মুখ করছে। জামায়াত চাইছে, কেন্দ্রের ভেতরও ক্যামেরা স্থাপন করা হোক, যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রমাণ সহজে পাওয়া যায়। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতার জন্য তারা প্রধান উপদেষ্টা ও অর্থ উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
নারী প্রার্থী সংখ্যা নিয়ে জুবায়ের বলেন, দলের মধ্যে প্রার্থী নির্ধারণ তৃণমূল পর্যায়ের পরামর্শ অনুযায়ী করা হয়। সামাজিক ও পারিবারিক বাস্তবতার কারণে অনেক নারী সরাসরি নির্বাচনে অংশ নিতে অনীহা প্রকাশ করেছেন, তবে ভবিষ্যতে তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশাবাদী।
প্রবাসী ভোটারদের পোস্টাল ব্যালটের বিষয়েও জামায়াত নিশ্চিত হয়েছে যে, ৩০ বা ৩১ তারিখে পাঠানো ব্যালটও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পৌঁছালে গ্রহণ করা হবে। এ ছাড়া তারা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষপাতমূলক আচরণের বিষয়ে প্রতিকার চেয়েছেন।
জুবায়ের আশা প্রকাশ করেছেন, নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে একটি সুষ্ঠু, নিরাপদ এবং সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ নিশ্চিত করবে।