রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ০২:১৯ পূর্বাহ্ন

কে এই বহুল আলোচিত ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ফারুক হোসেন?

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬
মো. ফারুক হোসেনের জন্ম খুলনা বিভাগের সাতক্ষীরা জেলায়। শিক্ষা জীবনে তিনি দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০৯–১০ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরু থেকেই ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে পড়েন এবং ধীরে ধীরে ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন।

সহপাঠীদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয় শেষ করার পর অনেকের মতো নিরাপদ পেশাজীবনে প্রবেশের সুযোগ থাকলেও তিনি সেই পথ বেছে নেননি। পরিবারে একমাত্র সন্তান হয়েও তিনি বেছে নেন ছাত্ররাজনীতির ঝুঁকিপূর্ণ পথ। রাজনৈতিক আদর্শ ও সংগঠনের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই তিনি রাজপথকেন্দ্রিক রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার সিদ্ধান্ত নেন।

দীর্ঘদিনের রাজপথের রাজনীতি, সাংগঠনিক দক্ষতা, কর্মীবান্ধব নেতৃত্ব এবং তৃণমূলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ এই সব বৈশিষ্ট্যের কারণে ছাত্রদলের ভেতরে ফারুক হোসেনের অবস্থান ক্রমেই শক্ত হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মতে, দুঃসময়ে রাজপথে সক্রিয় থাকার কারণে তিনি ইতোমধ্যে কর্মীদের আস্থার জায়গা তৈরি করেছেন।

ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মতে, সংগঠনের দুঃসময়ে রাজপথে সক্রিয় থাকা নেতাদের মধ্যে ফারুক হোসেন অন্যতম। বিভিন্ন সময়ের সরকারবিরোধী আন্দোলন, বিক্ষোভ কর্মসূচি এবং রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তাকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে দেখা গেছে।

সমসাময়িকদের মধ্যে রাজপথের কঠিন কর্মসূচিতে সবচেয়ে বেশি সোচ্চার ছিলেন এই ফারুক। ২০১২ সালে ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার বিরোধী মিছিল থেকে ১ম গ্রেপ্তার হন ফারুক। তারপরও থেমে যাননি তিনি। ২০১৩-১৪ -১৫ সালের আন্দোলনে সর্বোচ্চ উপস্থিতি, জুলাই আন্দোলনে কারফিউ ভেঙ্গে প্রথম মিছিলসহ ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর ডাকা হরতাল ও অবরোধ কর্মসূচিতে তিনি রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ওই সময় তিনি সিনিয়র ও জুনিয়র নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে নিয়মিত মিছিল, সমাবেশ এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এছাড়া ২০২৪ সালের আন্দোলনেও তিনি সম্মুখসারিতে ছিলেন বলে সংগঠনের নেতাকর্মীরা উল্লেখ করেন।

তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, মামলা এবং গ্রেপ্তারের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও তিনি আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়াননি।

ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ফারুক হোসেন একাধিক মামলার মুখোমুখি হয়েছেন, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের দ্বারা একাধিকবার নির্যাতন এবং রাজনৈতিক হয়রানির স্বীকার হয়েছেন। তবুও তিনি সংগঠনের কর্মসূচিতে সক্রিয় থেকে রাজপথের রাজনীতি চালিয়ে গেছেন।

সহকর্মীদের মতে, এই সময়গুলোই তার রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও দৃঢ় করেছে। অনেকেই মনে করেন, রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে তিনি কর্মীদের কাছে গ্রহণযোগ্য নেতা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।

ছাত্রদলের ভেতরে ফারুক হোসেনকে অনেকেই একজন দক্ষ সাংগঠনিক নেতা হিসেবে বিবেচনা করেন। সংগঠনের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার যোগাযোগ এবং সমন্বয়ের দক্ষতা তাকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে, যার ফলে নেতাকর্মীদের দাবী সবচেয়ে বেশি অনুসারী এখন ফারুকের। কর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা, সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং রাজনৈতিক সংকটের সময় কর্মীদের পাশে থাকার কারণে তাকে অনেকেই কর্মীবান্ধব নেতা হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে ছাত্ররাজনীতিতে তার পরিচিতি রয়েছে একজন ক্লিন ইমেজের নেতা হিসেবে।

রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্ববোধের ক্ষেত্রেও ফারুক হোসেনের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন তার সহকর্মীরা। সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়া আর্থিকভাবে অসচ্ছল তিন শিক্ষার্থীর ভর্তি ও পড়াশোনার খরচের দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি।

এ বিষয়ে ফারুক হোসেন বলেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে অনেক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেলেও আর্থিক সংকটের কারণে তাদের পক্ষে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। সেই জায়গা থেকেই তিনি শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন।

তিনি বলেন, শিক্ষা জীবন শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রয়োজন হলে ওই শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার চেষ্টা করবেন।

ছাত্রদলের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির দুই বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকেই নতুন নেতৃত্ব নিয়ে সংগঠনের ভেতরে আলোচনা শুরু হয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন কেন্দ্রীয় কমিটিতে সাধারণত ২০০৯-১০ থেকে ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের নেতাদের নেতৃত্বে আনার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে ‘সিলেকশন’ পদ্ধতিতে কমিটি গঠনের প্রচলন থাকলেও এবার কাউন্সিলের মাধ্যমে ভোটে নেতৃত্ব নির্বাচনের সম্ভাবনার কথাও আলোচনায় এসেছে। এমন প্রেক্ষাপটে ছাত্রদলের সম্ভাব্য নতুন নেতৃত্বের তালিকায় যেসব নাম ঘুরছে, তাদের মধ্যে বয়স, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং সাংগঠনিক সক্রিয়তার দিক বিবেচনায় ফারুক হোসেনকে সম্ভাব্য নেতৃত্বের তালিকায় দেখা হচ্ছে। যাকে সংগঠনের ভেতরে অনেকেই আসন্ন কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী হিসেবে দেখছেন।

সব মিলিয়ে ছাত্রদলের রাজনীতিতে বর্তমানে আলোচিত তরুণ নেতৃত্বদের মধ্যে অন্যতম হয়ে উঠেছেন মো. ফারুক হোসেন। রাজপথের আন্দোলন, সাংগঠনিক দক্ষতা, কর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ এবং সামাজিক উদ্যোগ সবকিছু মিলিয়ে তাকে অনেকেই সম্ভাবনাময় নেতা হিসেবে দেখছেন। আসন্ন কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক পদে তার নাম ঘিরে সংগঠনের অভ্যন্তরে আলোচনা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত নেতৃত্বের দায়িত্ব কার হাতে যাবে, তা নির্ভর করবে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত ও সম্ভাব্য কাউন্সিল প্রক্রিয়ার ওপর। তবুও ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্বের আলোচনায় সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী হিসেবে মো. ফারুক হোসেন এখন অন্যতম আলোচিত নাম, এ বিষয়ে সংগঠনের ভেতরে-বাইরে আলোচনা দিন দিন বাড়ছে।

ছাত্রদল নেতাদের মতে, ১৯৭৯ সালের ১ জানুয়ারি তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এর হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত হয় ছাত্রদল। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংগঠনটি দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এবার শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সুযোগ্য পুত্র প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ছাত্রদলকে আরও সুসংগঠিত করতে যোগ্য নেতৃত্ব যাকেই নিয়ে আসবেন আমরা তাকেই স্বাগত জানাবো।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102