চলমান বৈশ্বিক ও দেশীয় অর্থনৈতিক বাস্তবতায় প্রস্তাবিত বাজেটকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
আবু হানিফ বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক ও দেশীয় অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এবারের বাজেট সময়োপযোগী ও প্রয়োজনীয়। বাজেটের আকার বড় হলেও দেশের সার্বিক বাস্তবতায় এটিকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখা উচিত।
তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী চলমান যুদ্ধ, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও পড়েছে। এর পাশাপাশি গত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগের দুর্নীতি, অর্থ পাচার, লাগামহীন লুটপাট এবং ঋণনির্ভর অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার কারণে দেশের অর্থনীতি একটি কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। ফলে বর্তমান সরকারের সামনে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এ পরিস্থিতির মধ্যেও স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে তুলনামূলক বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যা মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় অগ্রগতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমেও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে সহায়ক হতে পারে।
রাজস্ব আদায়ের বিষয়টি বাজেট বাস্তবায়নের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে আবু হানিফ বলেন, নির্ধারিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা যথেষ্ট উচ্চাভিলাষী। এটি অর্জনের জন্য কর ব্যবস্থার সংস্কার, কর ফাঁকি রোধ, প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
তিনি বলেন, সুশাসন নিশ্চিত করা, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং দক্ষ অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সরকার যদি বাজেট বাস্তবায়নে সফল হতে পারে, তাহলে এই চ্যালেঞ্জিং সময়েও দেশের অর্থনীতিকে ইতিবাচক ধারায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।
আবু হানিফ আরও বলেন, বাজেটের সাফল্য মূলত এর বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করবে। সঠিক পরিকল্পনা ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা থাকলে নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন অসম্ভব নয়।
সবশেষে তিনি বলেন, ‘চ্যালেঞ্জিং এই সময়ে বাজেটের আকার বড় হলেও আমি এটিকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছি।’