কুড়িগ্রামের উলিপুরে অর্থের বিনিময়ে আওয়ামী সমর্থিত ও জাতীয় পার্টির লোকজনকে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত, ত্যাগীদের অবমূল্যায়নসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে পদত্যাগ করেছেন উপজেলা ও পৌর বিএনপির চার নেতা।
পদত্যাগকারীরা হলেন- সদ্য ঘোষিত উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম ফুলু, পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক দেওয়ান নূরেচ্ছোবাহ স্টার ও মতলেবুর রহমান ও সদস্য আমিনুল ইসলাম।
সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগের কারণ উল্লেখ করে আমিনুল ইসলাম ফুলু বলেন, বিগত ১৭ বছরে বিএনপির কেন্দ্র ঘোষিত কোনো কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেননি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক তারিক আবুল আলা চৌধুরী। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে উলিপুর পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হয়েও নিজের গা বাঁচানোর স্বার্থে ও আওয়ামী লীগকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য উলিপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্যানেল মেয়র হিসেবে নির্বাচিত করেন ওই ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সভাপতি আনিছুর রহমানকে। পরে তার ওপর সমস্ত দায়িত্ব অর্পণ করে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এছাড়া সশরীরে জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক, জাফর আলীর পক্ষে ভোট প্রদান করে নির্বাচনে জয়লাভ করিয়ে ফুলের মালা দিয়ে তাকে বরণ করেছেন জেলা পরিষদ নির্বাচনে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের মতামত না নিয়েই জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের দোসর মামলার ৬৩ নম্বর আসামি শহিদুল রহমানকে জেলা নেতৃবৃন্দ সদ্যঘোষিত উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির ১৮ নম্বর সদস্য ঘোষণা করেছে। এছাড়া বিগত দিনে উপজেলা আহ্বায়ক কমিটির ১৬ নম্বর সদস্য সাইফুল ইসলাম বাদল ও পৌর আহ্বায়ক কমিটির ১৭ নম্বর সদস্য রফিকুল ইসলাম আওয়ামী লীগের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেছে। ফলে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী গোলাম হোসেন মন্টুর পক্ষে নৌকা মার্কার ভোট প্রার্থনা করেছেন তারা। শুধু তাই নয়, ২০২৪ সালে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সৌমেন্দ্র প্রসাদ পান্ডে গবার চাচাতো ভাই রতিন্দ্রনাথ প্রসাদ পান্ডের মোটরসাইকেলের পেছনে বসে নৌকার প্রচার প্রচারণায় অংশগ্রহণ করেন বাদল।
কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মতলেবুর রহমান বলেন, মৃত্যুর উপত্যকায় দাঁড়িয়ে মুক্তির আন্দোলন করেছিলাম আওয়ামী লীগের আমলে। এখন হাইব্রিডদের ভিড়ে কোণঠাসা হয়েছি আমরা। বঞ্চিত করা হয়েছে অনেক ত্যাগী নেতাকর্মীদের। মাঠ জরিপ করে কমিটি করা হলে বঞ্চিত হতো না ত্যাগীরা। আমরা চাই অবিলম্বে এই কমিটি বাতিল করে বিএনপির জন্য নিবেদিত প্রকৃত কর্মীদের কমিটিতে স্থান দেওয়া হোক। এজন্য তারেক রহমানসহ বিএনপির মহাসচিবের হস্তক্ষেপ কামনা করছি আমরা।
অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ বলেন, যাদেরকে নিয়ে কমিটি করা হয়েছে সবাই তারা পরীক্ষিত। উলিপুর উপজেলা কমিটিতে যাকে আহ্বায়ক করা হয়েছে তিনি জেলা কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি ছিলেন। আমাদের সঙ্গেই বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। সেখানে বিএনপির দুটি গ্রুপ বিদ্যমান। সবাইকে নিয়ে একটি প্লাটফর্মে রাজনীতি করতে চাচ্ছি আমরা। দুটি গ্রুপের মধ্যে সমন্বয় করে কমিটি দেওয়া হয়েছে। সবাইকে আহ্বায়ক কমিটিতে স্থান দেওয়া সম্ভব নয়। যারা নেতৃত্বে আসতে চান কাউন্সিলের মাধ্যমে সেই সুযোগ পাবেন তারা। এরপরও যারা নানা অভিযোগ তুলে পদত্যাগের ঘোষণা দিচ্ছেন তারা। বিএনপির ভাবমূর্তি নষ্ট করতে চাচ্ছেন।
অভিযোগ প্রসঙ্গে কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, উলিপুরে যে কমিটি দেওয়া হয়েছে সেটি ব্যালেন্স করে করা হয়েছে। তাদের মনঃপূত না হওয়ায় কমিটি নিয়ে এসব প্রশ্ন তুলছেন। সংবাদ সম্মেলন করে যেসব নেতা পদত্যাগ করেছেন সে বিষয়টি আমার জানা নেই। তাদের পদত্যাগপত্রও হাতে পাইনি।