নির্বাচন কমিশনের গেজেট অনুসারে পুনর্নির্ধারিত সীমানা অনুযায়ী নির্বাচন নিয়ে কোনো বাধা না থাকলেও রাজনৈতিক অঙ্গনে পাবনা-১ আসন নিয়ে বইছে নতুন হাওয়া।
আসনটিতে বিএনপি থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন মো. শামসুর রহমান। এ ছাড়াও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে মো. আব্দুল গনি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আওয়ামী লীগের সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ অধ্যাপক আবু সাইয়িদ।
সব ঠিক থাকলেও গত বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন অধ্যাপক ড. আবু সাইয়িদ। এর পর থেকেই এই নতুন হাওয়া।
এদিকে তার যোগদানের পরই বদলাতে শুরু করেছে আসনটির নির্বাচনি কোলাহল। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. শামসুর রহমান ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রচারণা চালালেও পরিবেশ যেন শঙ্কায় রূপ নিয়েছে। বলা হচ্ছে, শেষ মুহূর্তে স্বতন্ত্র প্রার্থীর দলবদল নিয়ে চিত্র পাল্টাতে পারে পাবনা-১ আসনের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের।
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন পাবনা-১ আসনের জন্য নতুন তপশিল ঘোষণা করে। নির্বাচন কমিশনের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এ দুই আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে দেশের অন্য আসনগুলোর মতো আগামী ১২ ফেব্রুয়ারিতেই।
নতুন তপশিল অনুযায়ী, এই আসনের আপিল নিষ্পত্তি করা হবে ২৫ জানুয়ারি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬ জানুয়ারি। ২৭ জানুয়ারি প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে নির্বাচনি প্রচার।
শেষ মুহূর্তের পালাবদলে কারো কারো প্রতীক হাত বদলও হতে পারে বলে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।
বিষয়টি আরও জোরালো হয়েছে অধ্যাপক আবু সাইয়িদর বিএনপিতে যোগদানের পর একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে। বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন করব বলেই বিএনপিতে যোগ দিয়েছি। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। তারা যেভাবে বলবেন, সেভাবেই কাজ করব।’
ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবেন কি না সে বিষয়ে জানতে অধ্যাপক আবু সাইয়িদকে ফোন করলে তার সহযোগী দৈনিক রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমাদের নেতা দলীয় স্বার্থে মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে পারেন। কারণ দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি পাবনা-১ আসনের প্রার্থীকেই সমর্থন করে তার হয়েই মাঠে প্রচারণায় নামতে পারেন।’
তবে অধ্যাপক আবু সাইয়িদর যোগদান প্রসঙ্গে পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, ‘এটি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ব্যাপার। তবে তার যোগদানে মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে।’
অধ্যাপক আবু সাইয়িদ বাংলাদেশ সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য ছিলেন। তিনি পাবনা-১ আসনে ১৯৭৩ সালে প্রথম সংসদে এবং ১৯৯৬ সালে সপ্তম সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার সরকারের তথ্য প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। এ ছাড়া ১৯৯১ সালে পঞ্চম সংসদে বাকশালের প্রার্থী, ২০০১ সালে অষ্টম সংসদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী, ২০১৪ সালে দশম সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে গণফোরাম থেকে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হয়ে পরাজিত হন।
অন্যদিকে অবস্থান এবং নিজেকে দলের মনোনীত চূড়ান্ত প্রার্থী স্বীকার করে মো. শামসুর রহমান এক ফেসবুক পোস্টে লেখেন, বিএনপি থেকে পাবনা-১ আসনে আমাকে ধানের শীষের চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে নিশ্চিত করা হয়েছে।
কর্মীদের গুজব ও মিথ্যা প্রচারণায় কান না দেওয়ার বিষয়টি সতর্ক করে পোস্টে তিনি লেখেন, ‘সবাই গুজব ও মিথ্যা প্রচারণায় কান দিবেন না।’
এদিকে বিএনপির রাজনৈতিক রেষারেষি ও দলীয় সমীকরণের মাঝে নিজেদের স্থান শক্তিশালী করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এই আসনে দলটির মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান এবারই প্রথম ভোটের মাঠে নেমেছেন।
২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জামায়াত জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। ওই নির্বাচনে আসনটি থেকে জয় পেয়েছিলেন জামায়াতের সাবেক আমির প্রয়াত মতিউর রহমান নিজামী।
ভোটের মাঠের অবস্থান জানতে চেয়ে ফোন করলে মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান দৈনিক রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। আমাদের অবস্থান বেশ ভালো। মাঠের পরিবেশও বেশ উপকূল। খোদা সহায় থাকলে আমরা ভালো ফলাফল পাবো।’
উল্লেখ্য, সাঁথিয়া-বেড়ার সীমানা নিয়ে বিভিন্ন আইনি জটিলতার কারণে (৯ জানুয়ারি) আসনটির নির্বাচন প্রাথমিকভাবে স্থগিত করা হয়। তবে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের নির্দেশ অনুসারে, গত বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) নতুন সীমানা জারি করে পুনঃতপশিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।