চট্টগ্রাম ফটিকছড়ি ধর্মপুর এমদাদুল উলূম মাদ্রাসার দীর্ঘদিনের শিক্ষক ও প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন মুফতি ইমরান কাসেমী (৬০) ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
গতকাল হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ শুক্রবার (১৬ মে) দুপুর ১টা ১৭ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
মুফতি ইমরান কাসেমীর গ্রামের বাড়ি ফটিকছড়ি উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের খুইন্নের বাড়ির মরহুম খায়রুল হকের সন্তান।
শিক্ষাজীবনে তিনি বাংলাদেশে মাত্র পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। এরপর ইন্ডিয়ার মহারাষ্ট্র প্রদেশের খাদেমুল ইসলাম মাদ্রাসা এবং আরেকটি প্রতিষ্ঠানে কওমি ধারায় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পড়াশোনা সম্পন্ন করেন। পরে তিনি ভারতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী এবং বিশ্ববিখ্যাত দারুল উলূম দেওবন্দ মাদ্রাসায় ভর্তি হন। সেখান থেকে দাওরায়ে হাদিসসহ সর্বোচ্চ শিকার (শিক্ষাগত) সনদ অর্জন করে দেশে ফিরে আসেন।
প্রথমে ফটিকছড়ি তালীমুদ্দীন মাদ্রাসায় ৫-৬ বছর শিক্ষকতা করেন। এরপর ধর্মপুর এমদাদুল উলূম বড় মাদ্রাসার তৎকালীন মুহতামিম মরহুম মাওলানা আবু বকর (রহ.)-এর ডাকে ধর্মপুরে যোগদান করেন। আমৃত্যু প্রায় ২৫ বছর ধরে শিক্ষকতা ও দ্বীনের খেদমত করে আসছিলেন।
ব্যক্তিজীবনে তিনি তিনবার বিবাহ করেন। প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিশ বছর সংসার করেন, তবে সন্তান না হওয়ায় বিচ্ছেদ ঘটে। দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরে এক পুত্র সন্তান জন্মের পর তিনিও বিচ্ছেদপ্রাপ্ত হন। তৃতীয় স্ত্রীর ঘরে কোনো সন্তান হয়নি।
তিনি ছিলেন নরম মেজাজের, হাস্যোজ্জ্বল, সুন্নাতি জীবনের অনুসারী, সবার প্রিয় এক আলেম। ছাত্ররা তাকে খুব ভালোবাসতেন। মুফতি ইমরান কাসেমী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, মুজাহিদ কমিটি ও বিভিন্ন মসজিদে জুমার খতিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
আজ শুক্রবার রাত ৯টায় ধর্মপুর এমদাদুল উলূম বড় মাদ্রাসার মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।