জন্মদিন মানেই অনেকের কাছে উৎসব, আয়োজন কিংবা প্রিয়জনদের নিয়ে বিশেষ মুহূর্ত। তবে, কনক চাঁপার কাছে দিনটির হিসাবটা যেন একটু আলাদা। ৫৭ বছরে পা দিয়েও বড় কোনো আয়োজনের পরিকল্পনা নেই জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এই শিল্পীর। বরং নীরবে দিনটি পার করে দেওয়ার ইচ্ছাই তার—যদিও ভক্তদের ভালোবাসা সেই নীরবতা কতটা থাকতে দেবে, তা নিয়েই আছে কৌতূহল।
দেশের জনপ্রিয় এই সংগীতশিল্পীর জন্মদিন শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর)। জন্মদিনের ঠিক আগে টানা কয়েকদিন ইতালি, সুইডেন ও লন্ডনে স্টেজ শো শেষে বৃহস্পতিবার দেশে ফিরেছেন তিনি। দেশের মাটিতেই জন্মদিন কাটানোর ইচ্ছা ছিল তার। বিশেষ কোনো আয়োজন না থাকলেও পরিবার ও ভক্তদের ভালোবাসায় দিনটি শেষ পর্যন্ত আলাদা হয়ে উঠবে বলেই মনে করছেন কনক চাঁপা।
জন্মদিন প্রসঙ্গে কনক চাঁপা বলেন, “দেশের বাইরে থেকে আলহামদুলিল্লাহ বেশ ভালোভাবে শো শেষ করে দেশে ফিরেছি। আমার অনুভব এই যে, আমার প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা দিন দিন আরও বাড়ছে, এটা আসলেই ভাষায় প্রকাশের নয়। সবার এই ভালোবাসার ঋণ শোধ করাও সম্ভব নয়। আমি বারবার শ্রোতাদের ভালোবাসার কাছে পরাজিত হচ্ছি।”
জন্মদিন ঘিরে নিজের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন এই শিল্পী। তার ভাষায়, “জন্মদিন নিয়ে বিশেষ কোনো পরিকল্পনা নেই। আমার মেয়েই জন্মদিন নিয়ে সব পরিকল্পনা করত। কিন্তু, সে তো এখন দেশের বাইরে থাকে। আর ছেলে একটু লাজুক প্রকৃতির। তবে, আমার বউমা রান্নাবান্না করে। আমার আসলে চুপেচাপেই জন্মদিন পার করে দিতে ইচ্ছে করে। কিন্তু, সেটাও আর হয়ে ওঠে না।”
কারণটা অবশ্য কনক চাঁপার নিজের কাছেই পরিষ্কার। তার কিছু ভক্ত কোনো আগাম ঘোষণা ছাড়াই জন্মদিনে তাকে চমকে দিতে পছন্দ করেন। এবারও তেমন কিছু ঘটতে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি।
ভক্তদের সেই ভালোবাসার প্রসঙ্গে কনক চাঁপা বলেন, “আমার কিছু ভক্ত আছে, তারা আমার অজান্তেই আমাকে সারপ্রাইজ দিতে ভীষণ ভালোবাসে। হয়তো এবারো তার ব্যতিক্রম ঘটবে না।”
বয়স নিয়েও কোনো আড়াল নেই কনক চাঁপার। ৫৬ পেরিয়ে ৫৭ বছরে পা রাখলেও বয়সকে জীবনের ভার হিসেবে দেখেন না তিনি। বরং জন্মদিনের সঙ্গে বয়সের হিসাবকে নিছক একটি সংখ্যা হিসেবেই দেখছেন এই শিল্পী। তার ভাষায়, “সবচেয়ে বড় সত্যি কথা হলো জন্মদিন শুধুই একটা সংখ্যা মাত্র।”
তবে, ১১ সেপ্টেম্বর তারিখটির প্রতি আলাদা টান রয়েছে কনক চাঁপার। নিজের জন্মদিনকে বিশেষ মনে করার পাশাপাশি জীবনের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেছেন তিনি।
তিনি বলেন, “আমার জন্মদিনটা আমার কাছে সবসময়ই খুব স্পেশাল এবং ১১ সেপ্টেম্বর তারিখটাও আমি খুব ভালোবাসি। এই সুন্দর পৃথিবী ছেড়ে কেউই যেতে চায় না, আমিও চাই না। তার পরও আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ যে তিনি আমাকে পৃথিবীর বুকে রেখেছেন। আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন, আমিও সবার জন্য দোয়া করি।”
আয়োজন যতই ছোট হোক, কনক চাঁপার জন্মদিনে তাই ভালোবাসার পরিধিটা ছোট হওয়ার সুযোগ নেই। মঞ্চের ব্যস্ততা পেরিয়ে দেশের মাটিতে ফেরা এই শিল্পীর জন্য আজকের দিনটি হয়তো বড় কোনো উৎসবের নয়; বরং দীর্ঘ সংগীতযাত্রায় শ্রোতা-ভক্তদের ভালোবাসাকে নতুন করে অনুভব করার একটি উপলক্ষ। আর চুপচাপ থাকার ইচ্ছার মাঝেও যে অপ্রত্যাশিত কোনো ভালোবাসার চমক অপেক্ষা করছে না—সেটিও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।