শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ১০:১১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
র‌্যাব বিলুপ্ত হয়ে আসছে এসআরবি দুলুকে গুলির চেষ্টা, আটক যুবকের পরিচয় মিলেছে হাসিনার নির্দেশে সালাহউদ্দিন আহমদকে গুম করা হয়েছিল চলনবিলে ইকো-ট্যুরিজম প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে : বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী দারিদ্র্যের নির্মম কষাঘাত: মাথা গোঁজার ঠাঁই পেতে মাথার চুল বিক্রি করলেন অসহায় মা ‘গণমাধ্যম এখনো প্রকৃত অর্থে স্বাধীন নয়’—বাগেরহাটে ডা. শফিকুর রহমান বাগেরহাটে ট্রাক ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে মোটরসাইকেল চালক নিহত রামপালে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষ্যে সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত নানা কর্মসূচিতে বাগেরহাটে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উদযাপিত রাশিয়া-ইউক্রেনের পাল্টাপাল্টি হামলায় নিহত ২২

দারিদ্র্যের নির্মম কষাঘাত: মাথা গোঁজার ঠাঁই পেতে মাথার চুল বিক্রি করলেন অসহায় মা

শেখ বাকি বিল্লাহ, শরণখোলা প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬

দারিদ্র্যের নির্মম কষাঘাতে সব হারিয়ে খুলনা-মোংলা রেললাইনের পাশে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন অসহায় এক নারী। দুই সন্তানের অন্ন সংস্থান ও জীবনযুদ্ধে টিকতে না পেরে শেষ পর্যন্ত ঘরের ভাড়া মেটাতে মাথার চুল বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।

​হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি ঘটেছে বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামে।

“দুই সন্তানের মুখের দিকে তাকাতে পারি না। ঘর নাই, খাওয়ার কষ্ট। নিরুপায় হয়ে মাথার চুল বিক্রি করেছি। আমি সরকারের কাছে একটু সাহায্যের আবেদন জানাই।”

রেহানা খাতুন

 

​জীবনের গল্প ও বর্তমান পরিস্থিতি

  • আগের অবস্থা: রেহানা খাতুন নামের এই নারী এতদিন একটি ভাড়া করা ঝুপড়ি ঘরে সন্তান নিয়ে থাকতেন।
  • বর্তমান বাস্তবতা: দীর্ঘদিন ঘরের ভাড়া বকেয়া থাকায় ঘর ছাড়তে বাধ্য হন। বর্তমানে খুলনা-মোংলা রেললাইনের পাশের খোলা সরকারি জমিতে আশ্রয় নিয়েছেন তিনি।
  • বর্তমান উদ্যোগ: স্থানীয়দের সহায়তায় বাঁশের খুঁটি দিয়ে একটি ঘর তোলার চেষ্টা করা হলেও অর্থাভাবে তা অসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। প্রখর রোদ আর ভারী বৃষ্টিতে ভিজে প্রহর কাটছে তাদের।

​প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের আকুতি

​স্থানীয় প্রতিবেশী ফেরদৌসী বেগম জানান,

​”মাথা গোঁজার ঠাঁই না থাকায় রেহানা পাশের একটি বাড়িতে অস্থায়ীভাবে থাকত। একদিন দেখি তার মাথায় চুল নেই। কারণ জিজ্ঞেস করতেই কেঁদে উঠে বলল—ঘরের ৫০০ টাকা ভাড়া মেটাতে নিজের মাথার চুল বিক্রি করে দিয়েছে।”

 

​স্থানীয় বাসিন্দা মহিদুল ইসলাম বলেন,

​”সন্তোষপুর গ্রামের প্রবেশমুখে রেললাইনের পাশে বাঁশের ফ্রেম দাঁড়িয়ে আছে। এখন শুধু টিন আর বেড়ার ব্যবস্থাটুকু করা গেলেই ঘরটি দাঁড় করানো সম্ভব। এজন্য সমাজের বচ্ছলদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন।”

 

​এছাড়াও প্রবীণ বাসিন্দা আবু তালেব শেখ সহ এলাকার মানুষ সরকারি আবাসন প্রকল্পের আওতায় রেহানাকে দ্রুত একটি স্থায়ী ঘরের ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য আকুল আবেদন জানিয়েছেন।

​নিঃস্ব মায়ের ছোট্ট স্বপ্ন

​দুই সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে প্রতিদিন বাঁচার সংগ্রাম চালাচ্ছেন রেহানা। তার স্বপ্ন খুব বড় কিছু নয়—মাথার ওপর একটা টিনের ছাউনি, যেখানে বৃষ্টির দিনে সন্তানদের ভিজতে হবে না আর রাতে নিশ্চিন্তে একটু ঘুমাতে পারবেন।

​একজন মায়ের এমন চরম আত্মত্যাগ আমাদের সমাজের দারিদ্র্যের ভয়াবহ চিত্র ফুটিয়ে তোলে। এখন প্রশ্ন একটাই—আর কত ত্যাগ স্বীকার করলে এই অসহায় মা ও তার সন্তানরা পাবে নিরাপদ এক টুকরো আশ্রয়?

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102