হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি ঘটেছে বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামে।
“দুই সন্তানের মুখের দিকে তাকাতে পারি না। ঘর নাই, খাওয়ার কষ্ট। নিরুপায় হয়ে মাথার চুল বিক্রি করেছি। আমি সরকারের কাছে একটু সাহায্যের আবেদন জানাই।”
— রেহানা খাতুন
স্থানীয় প্রতিবেশী ফেরদৌসী বেগম জানান,
”মাথা গোঁজার ঠাঁই না থাকায় রেহানা পাশের একটি বাড়িতে অস্থায়ীভাবে থাকত। একদিন দেখি তার মাথায় চুল নেই। কারণ জিজ্ঞেস করতেই কেঁদে উঠে বলল—ঘরের ৫০০ টাকা ভাড়া মেটাতে নিজের মাথার চুল বিক্রি করে দিয়েছে।”
স্থানীয় বাসিন্দা মহিদুল ইসলাম বলেন,
”সন্তোষপুর গ্রামের প্রবেশমুখে রেললাইনের পাশে বাঁশের ফ্রেম দাঁড়িয়ে আছে। এখন শুধু টিন আর বেড়ার ব্যবস্থাটুকু করা গেলেই ঘরটি দাঁড় করানো সম্ভব। এজন্য সমাজের বচ্ছলদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন।”
এছাড়াও প্রবীণ বাসিন্দা আবু তালেব শেখ সহ এলাকার মানুষ সরকারি আবাসন প্রকল্পের আওতায় রেহানাকে দ্রুত একটি স্থায়ী ঘরের ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য আকুল আবেদন জানিয়েছেন।
দুই সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে প্রতিদিন বাঁচার সংগ্রাম চালাচ্ছেন রেহানা। তার স্বপ্ন খুব বড় কিছু নয়—মাথার ওপর একটা টিনের ছাউনি, যেখানে বৃষ্টির দিনে সন্তানদের ভিজতে হবে না আর রাতে নিশ্চিন্তে একটু ঘুমাতে পারবেন।
একজন মায়ের এমন চরম আত্মত্যাগ আমাদের সমাজের দারিদ্র্যের ভয়াবহ চিত্র ফুটিয়ে তোলে। এখন প্রশ্ন একটাই—আর কত ত্যাগ স্বীকার করলে এই অসহায় মা ও তার সন্তানরা পাবে নিরাপদ এক টুকরো আশ্রয়?