রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধে অংশ নিতে গিয়ে ‘মাইন বিস্ফোরণে’ কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার এক যুবক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে তার পরিবার। নিহত মো. জাহাঙ্গীর হোসাইন উপজেলার জয়কা ইউনিয়নের কান্দাইল-বাগপাড়া গ্রামের প্রয়াত হাবিবুর রহমানের ছেলে।
শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে রাশিয়ায় অবস্থানরত জাহাঙ্গীরের এক বন্ধু ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর পরিবারকে জানান বলে নিশ্চিত করেছেন করিমগঞ্জ থানার ওসি এমরানুল কবির।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, গত সোমবার ইউক্রেন সীমান্তসংলগ্ন রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত এলাকায় মাইন বিস্ফোরণে তিন বাংলাদেশি নিহত হন। তাদের মধ্যে জাহাঙ্গীরও ছিলেন।
জাহাঙ্গীরের ছোট ভাই জাভেদ জানান, তার ভাইয়ের বন্ধু মৃদুল ভিডিও বার্তার মাধ্যমে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মৃদুল বর্তমানে রাশিয়ার একটি সেনা ক্যাম্পে কর্মরত আছেন। তার বাড়ি টাঙ্গাইল জেলায়। একই ঘটনায় আরও দুই বাংলাদেশি নিহত এবং একজন আহত হয়েছেন বলেও জানান তিনি। নিহত অপর দুজন হলেন— মাদারীপুরের মো. সুরুজ কাজী ও কুমিল্লার মো. ইউসুফ খান।
ভিডিও বার্তায় মৃদুল অভিযোগ করেন, ‘আরাফা আল মনোয়ার এজেন্সি’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাদের রাশিয়ায় পাঠায়। পরে বিভিন্ন কৌশলে তাদের রাশিয়ান সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয় এবং যুদ্ধে পাঠানো হয়। এ ঘটনার জন্য ওই এজেন্সিকেই দায়ী করেন তিনি।
জাহাঙ্গীরের মৃত্যুর খবরে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মা জাকিয়া বেগম বারবার ছেলের নাম ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। তিনি বলেন, আমি আর কিছু চাই না। টাকা-পয়সা লাগবে না, আমার ছেলেটারে শুধু ফেরত চাই।
আড়াই বছরের সন্তানকে কোলে নিয়ে জাহাঙ্গীরের স্ত্রী মাশুকা হোসাইন বলেন, ভালো চাকরির আশায় সংসারের ভাগ্য ফেরাতে রাশিয়া গিয়েছিল সে। কিন্তু তাকে যুদ্ধে পাঠানো হলো। এ যুদ্ধে শুধু সে না, আমরাও যেন শেষ হয়ে গেলাম।
জাহাঙ্গীরের শ্বশুর রফিকুল ইসলাম বলেন, রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার বিষয়টি তারা পরে জানতে পারেন। তিনি জাহাঙ্গীরকে দেশে ফিরে আসতে বলেছিলেন, কিন্তু আর ফেরা হয়নি তার।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে পরিবারের সঙ্গে জাহাঙ্গীরের শেষবার কথা হয়। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, কিছুদিন নেটওয়ার্কের বাইরে থাকবেন।
জাহাঙ্গীরের বাবা ছিলেন রাজমিস্ত্রি এবং মা পোশাক কারখানার শ্রমিক। কোভিড মহামারির সময় পরিবারটি ঢাকা ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে চলে আসে। এসএসসি পাসের পর জাহাঙ্গীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি নেন। পরে স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকায় বসবাস শুরু করলেও আর্থিক সংকটের কারণে গ্রামে ফিরে যান। চার মাস আগে ভালো চাকরির আশায় শ্বশুরবাড়ির আর্থিক সহায়তায় রাশিয়ায় পাড়ি জমান তিনি।
করিমগঞ্জ থানার ওসি এমরানুল কবির বলেন, এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে পরিবারের কাছ থেকে মৃত্যুর খবর জেনেছি। সীমান্ত এলাকায় মাইন বিস্ফোরণে জাহাঙ্গীর নিহত হয়েছেন বলে তারা জানিয়েছে।
এর আগে, গত ২ মে রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেন সীমান্ত এলাকায় ড্রোন হামলায় একই উপজেলার জাফরাবাদ ইউনিয়নের মাঝিরকোনা গ্রামের বাসিন্দা রিয়াদ রশিদ (২৮) নিহত হন বলে জানা গেছে।