এবার শেরপুরে ১৩ বছর বয়সী পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া এক কিশোরীকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে কায়েস নামে এক সন্তানের জনকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত কায়েস (২৪) শেরপুর পৌর শহরের ঢাকলহাটি মহল্লার চাউল ও কুড়া ব্যবসায়ী শাহীন মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ঐ কিশোরীর মা বাদী হয়ে শেরপুর সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ঢাকলহাটি উত্তরপাড়া এলাকার বাসিন্দা চাল ব্যবসায়ী মো. শাহিন মিয়ার ছেলে কায়েস ওরফে কাওসার ওই কিশোরীকে বিভিন্ন প্রলোভন ও ফুসলিয়ে গত ৩/৪ মাস যাবত তার নিজ বাড়িতে ও বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে নিয়মিত ধর্ষণ করে আসছিল। এতে ওই কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। বিষয়টি টের পেয়ে অভিযুক্ত কায়েস তার এক নিকট আত্মীয়র স্থানীয় একটি ক্লিনিকের আয়া মোছা. রোখসানার মাধ্যমে গর্ভপাত করালে ওই কিশোরী অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে অসুস্থ হয়ে পড়ে। ফলে তাকে গত ২২ মে (শুক্রবার) জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। বর্তমানে ওই কিশোরীর অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা বলেন, ‘আমি বিষয় টি জানতাম না। গত দুই দিন আগে বিষয় টি অবগত হই। আমার মেয়ে আমাকে বলেছে কায়েস বিভিন্ন সময় আমার মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছে। কায়েসের মা ও তার পরামর্শে আমার মেয়ের সম্পর্কে নানী হয় রোখসানা (স্থানীয় ক্লিনিকের আয়া) গর্ভপাত করাতে আমাদের না জানিয়ে দুটি বড়ি খাইয়ে দেওয়ায় প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। বর্তমানে আমার মেয়ের অবস্থা ভালো না। আমি আইনের আশ্রয় নিব। যাতে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি হয়।’
কিশোরীর মা বলেন, ‘আমি আমার মেয়ে অসুস্থ এমন খবর পেয়ে তাকে দেখতে গেলে সে কান্নাজড়িত কণ্ঠে আমার হাত খামচে ধরে বলে মা আমাকে বাঁচাও! কায়েস আমাকে জোর করে ধর্ষণ করেছে। সে আমাকে অনেকবার খারাপ কাজ করেছে। পরে কায়েসের লোকজন জোর করে আমার মেয়েকে গর্ভপাত করাতে বড়ি খাইয়ে দেওয়ার পর থেকেই আমার মেয়ে আর কথা বলে না। এখন সে গুরতর অসুস্থ। আমি এর কঠিন শাস্তি চাই।’
অভিযুক্ত কায়েসের বাবা মো. শাহিন মিয়ার সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমার ছেলে এ ঘটনার সাথে জড়িত না। বরং কয়েকজন মিলে ওই মেয়ের সাথে খারাপ কাজ করেছে। কারা জড়িত এ কথা বললে তিনি ফোন কেটে দেন।
এ বিষয়ে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. অনন্যা দত্ত বলেন, মেয়েটিকে ধর্ষণ করা হয়েছে মর্মে জেনে গাইনি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। দেখে মনে হচ্ছে নির্যাতন করা হয়েছে। আমাদের কন্সালটেন্টরা পরীক্ষা নিরিক্ষার পর সবকিছু বলতে পারবেন।
এ ব্যাপারে শেরপুর সদর থানার ওসি মো. সোহেল রানা বলেন, এ ঘটনায় মেয়ের মা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মেয়েটি দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিল। বাচ্চা নষ্ট করার জন্য ঔষধ খাওয়ানো হয়েছিল। বর্তমানে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছে। আমরা আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রেখেছি। (রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত) এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারিনি।
এদিকে ১৩ বছর বয়সী ওই কিশোরীর ধর্ষণের ঘটনায় শেরপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিন্দার ঝড় বইছে। অবিলম্বে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি করেছেন তারা।