বাগেরহাট সদর উপজেলার রাখালগাছি ইউনিয়নের রসুলপুর সরকারি পুকুর (পদ্ম পুকুর) নামে পরিচিত জেলা পরিষদের পুকুর থেকে বিষ প্রয়োগ করে মাছ মারার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে।
শনিবার (২৩ মে) সকাল সাড়ে সাতটার দিকে এ ঘটনা ঘটেছে।
বিষ প্রয়োগ করে মাছ মারার ঘটনায় বিএনপি’র স্থানীয় পদধারী বেশ কয়েকজন নেতার নামে অভিযোগ করেছেন রাখালগাছি ইউনিয়ন বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ আমলে এই পুকুরটিতে স্থানীয় নেতারা মাছ চাষ করে আসছিল কিন্তু ২০২৪ এর ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে স্থানীয় বিএনপি নেতারা জেলা পরিষদের আওতাধীন পদ্ম পুকুরটি তাদের নিজেদের দখলে নেয় এবং তারা পরবর্তীতে বিষ প্রয়োগ করে ঐ পুকুর থেকে চারা মাছ’সহ বিভিন্ন সাইজের সাদা মাছ মেরে নেয়।
সরেজমিনে রাখালগাছি পদ্ম পুকুরে গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় বাসিন্দা রোস্তম হাত জাল দিয়ে পুকুর থেকে মাছ মারছে। তাকে মাছ মারার বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, সকালে বিএনপি নেতারা এই পুকুর থেকে মাছ মেরে নিয়ে গেছে। এখন পুকুরে মাছ ভেসে উঠেছে, তাই আমি জাল দিয়ে ধরার চেষ্টা করছি। তার কাছে জানতে চেয়েছিলাম এই পুকুর থেকে কে কে মাছ মেরেছে? উত্তরে তিনি বলেন– মোস্ত, তরিক, মুজি, আকবর’সহ আরো অনেকে।
এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে রাখালগাছি ইউনিয়ন বিএনপি’র সাবেক সমন্বয়ক শেখ সাইফুজ্জামান বাবু বলেন, এই ইউনিয়নে কিছু নব্য বিএনপি ৫ তারিখের পরে দলে অনুপ্রবেশ করে বিভিন্ন রকম বিতর্কিত কাজকর্ম করছে। তারা আজকে পদ্মপুকুর থেকে রোটেশন (বিষ) দিয়ে মাছ মেরে নিয়ে গেছে। কয়েকদিন আগে কাড়াখালি নামক একটি পুকুর থেকে মাছ লুট করে নিয়ে গেছে। এ বিষয়ে আমরা সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখালেখি করেছিলাম এবং ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানিয়েছিলাম কিন্তু কোন প্রতিকার পায়নি। যার কারণে প্রতিনিয়ত এই ধরনের অপকর্ম ঘটে চলেছে। আমরা চাই সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে জেলা পরিষদের পুকুর থেকে মাছ মারার সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
৭ নং ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি রাজু মল্লিক বলেন, জেলা পরিষদের এই পুকুরটি কাউকে ইজারা দেওয়া হয়নি কিন্তু স্থানীয় পদধারী বিএনপি নেতারা প্রকাশ্য দিবালোকে এই পুকুর থেকে বিষ প্রয়োগ করে মাছ মেরে নিয়ে গেছে। আমি জেলা পরিষদের কর্মকর্তাদের কাছে ফোন করে বিষয়টি অবহিত করেছি, তারা ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
তবে এ ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করে রাখালগাছি ইউনিয়ন বিএনপির ৭ নং ওয়ার্ডের সভাপতি মোস্তফা মল্লিক বলেন, আমরা পুকুর থেকে অল্প কিছু চ্যালা মাছ মেরেছি। মাছ মারার বিষয়টি ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি অবগত আছেন।
বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসনিক অফিসার মোঃ হারুন অর রশিদ বলেন, আমরা পুকুর থেকে মাছ মারার বিষয়টি স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। যারা এই কাজের সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।